সীমান্তের কাঁচা সড়কে সীমাহীন জনদুর্ভোগ
জয়পুরহাটের সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী অংশে কদমতলী মোড় থেকে লকমা জমিদারবাড়ি পর্যন্ত বেহাল সড়কের একাংশ। বুধবার তোলা সমকাল
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
সীমান্তঘেঁষা জেলা জয়পুরহাটের সদর উপজেলা অংশে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চলাচলের সড়কটি স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত পাকা করা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পড়তে হয় মহাদুর্ভোগে। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে পুরো সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
কেবল জনদুর্ভোগই নয়, সীমান্তবর্তী এলাকায় পুশইন উত্তেজনা কিংবা কোনো অঘটন ঘটলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রচণ্ড বেগ পেতে হয় সড়কের কারণে। সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় অনেক বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে যায়।
জানা গেছে, সদর উপজেলার কদমতলী মোড় থেকে রামকৃষ্ণপুর ও কল্যাণপুর হয়ে লকমা জমিদারবাড়ি পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটারের এই কাঁচা সড়কটির পুরোটাই সীমানা-সংলগ্ন। বর্ষাকালে সড়কটি কাদায় পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় মুমূর্ষু কিংবা প্রসূতি রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। আশপাশের শিক্ষার্থীরাও ঠিক সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না।
বেহাল এই সড়ক নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী নারগিস বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, বর্ষার সময় যখন সবাই স্কুলে যায় কাদা-পানির কারণে পৌঁছানোর আগেই পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। অনেকে কাদায় পড়ে গিয়ে বই-খাতা ভিজিয়ে ফেলে। জন্মের পর থেকে এই সড়কটি কাচা দেখছে। এখনও এটি পাকা করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
লকমা এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোট দিয়ে আসছেন। জনপ্রতিনিধি যেই হন কেউ আর এই রাস্তা ঠিক করার জন্য পদক্ষেপ নেন না। এই রাস্তার কাজ করেন না। কাঁচা সড়কের কারণে কয়েকদিন পর পর পুশইনের ঘটনা ঘটে, তা সামাল দিতে সংশ্লিষ্টদের ব্যাপক ভোগান্তি হচ্ছে।
একই এলাকার জোমসের আলী জানান, রাস্তার এমন দশার কারণে বর্ষাকালে আত্মীয়-স্বজনরাও এই এলাকায় আসতে চান না। আক্কাস আলী নামের আরেক বাসিন্দা জানান, ইজিবাইক বা মোটরসাইকেল তো দূরের কথা, কোনো যানবাহনই চলতে পারে না। বাধ্য হয়ে পণ্য ঘাড়ে ও পিঠে বয়ে সীমান্তসংলগ্ন বাজারে যেতে হয়।
রামকৃষ্ণপুর-কদমতলী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে ধলাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক বলেন, কল্যাণপুর ও রামকৃষ্ণপুর মিলে একটি ওয়ার্ডে দেড় হাজারের বেশি ভোটার বসবাস করেন। সীমান্তবর্তী
সবার সুবিধার্থে এই রাস্তাটি টেন্ডারের আওতায় আনা উচিত কর্তৃপক্ষের।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জয়পুরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু এটি সীমান্তবর্তী সড়ক এবং বিজিবির যাতায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই আগামীতে নতুন প্রকল্পের প্রস্তাবনা চাওয়া হলে এটি অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
- বিষয় :
- সড়ক