ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেট সিটি করপোরেশন

আটবার তদন্ত, ৬ বার নোটিশ তবুও অটল ভবন, পার্কিং

আটবার তদন্ত, ৬ বার নোটিশ তবুও অটল ভবন, পার্কিং
×

 সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট-সংলগ্ন ওয়েভস আবাসিক এলাকায় নির্মিত সাত্তার ম্যানশন নামে একটি ভবনের নিয়মবহির্ভূত অংশ ও পার্কিং অপসারণে আটবার তদন্ত ও ছয়বার নোটিশ দিয়েও ব্যর্থ সিটি করপোরেশন। এতে করে প্রশ্ন উঠেছে, কিসের বলে অটল দাঁড়িয়ে রয়েছে ভবনটি?

জানা গেছে, এলাকার শীতলগলির মুখে অবস্থিত এই ভবনসংলগ্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ নিয়ে চলছে টানাপোড়েন। একাধিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত তিন বছরে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) কর্তৃপক্ষ কম হলেও ৮ বার তদন্ত এবং ৬ বার মালিক পক্ষকে নোটিশ প্রদান করেছে। সর্বশেষ চূড়ান্ত নোটিশের পর গত ১২ আগস্ট সিসিক উচ্ছেদ অভিযানে গেলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উচ্ছেদ বা অপসারণ না করেই ফিরে আসে আভিযানিক দল। 
কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের আম্বরখানা এলাকার শীতলগলির মুখে মেইন রোডের পাশে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জায়গার ওপর যৌথ মালিকানায় একটি তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাসিব তুহেল গং ও তাঁর ভাই আব্দুল আলিম রাসেল, তাদের চাচি মনোয়ারা বেগম ও চাচাতো বোন রোকসানা লেইছ ভবন নির্মাণের পর হিস্যা অনুযায়ী অংশ পান।
২০২১ সালে তুহেল, রাসেল ও মনোয়ারা তাদের অংশে ভবনের বর্ধিত করেন এবং পরে পার্কিংস্থল মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেন। নকশাবহির্ভূত কাজ করায় অংশীদার রোকসানা লেইছ ২০২৩ সালে সর্বপ্রথম ভবন সম্প্রাসরণের কারণে রাস্তায় চলাচলে প্রতিবন্ধকতা ও পরে পার্কিং প্লেসে দোকান ভাড়া বিষয়ে সিসিকের মেয়র বরাবর অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্ত করা হয়। 

২০২৩ সালের ২৩ জুলাই সিসিকের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান অভিযুক্ত মালিকদের বিরুদ্ধে নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে ভবনের অংশ বিশেষ অপসারণ ও কাগজপত্র চাওয়া হয়। প্রতিপক্ষ তখন সময় চেয়ে নেন। পরবর্তী সময়ে রোকসানার আবেদনের ফাইলটি গায়েব হয়ে যায়। তিনি আবার ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমপক্ষে ৮ বার তদন্ত ও ৬ বার নোটিশ দেয় সিসিক। ২০২৫ সালে দুটি চূড়ান্ত নোটিশে দোকানকোঠা অপসারণের কথা বলা হয়। অন্যান্য নোটিশে একইভাবে বিধিবহির্ভূত অংশ অপসারণ ও পার্কিং থেকে দোকান সরাতে বলা হয়। কাজের কাজ কিছু হয়নি। 

সর্বশেষ চলতি বছরের ১২ আগস্ট উচ্ছেদ অভিযানের নোটিশ দেওয়া হয়। ওইদিন সিসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযানে যাওয়ার পর উচ্ছেদ না করে ফিরে আসে আভিযানিক দল। পরে প্রধান নির্বাহীর কাছে প্রতিবেদন দেন সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট। তাতে তিনি ভবনের অংশীদারিদের পারিবারিক বিরোধ ও জটিলতা উল্লেখ করে দেওয়ানি মামলার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিসিকের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর।
ওই প্রকৌশলী জানান, উচ্ছেদের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছিল। অভিযানে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ভবনটিতে পারিবারিক বিরোধ এবং কিছু জটিলতা থাকায় আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
আবেদনকারী রোকসানা লেইছ বলেন, বিরোধটি সম্পত্তি নিয়ে নয়, বিষয়টি সিসিকের এখতিয়ারভুক্ত। ভবন নির্মাণের পর নকশা না মানার কারণে জটিলতা তৈরি করেছেন অংশীদাররা। সেই সমস্যা দূর করতে সিসিক যথেষ্ট। তিন বছর ধরে তদন্ত আর নোটিশের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অভিযানে এলেও ফলাফল শূন্য। 

আরও পড়ুন

×