ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাবিতে ছাত্রদলের ‘ভাউচার মেলা’

রাবিতে ছাত্রদলের ‘ভাউচার মেলা’
×

ছবি: সমকাল/মাইনুল ইসলাম রাজু

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৩:৩৮ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৩:৪৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে টাকা উত্তোলনের বিপরীতে বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গাত্মক ‘ভাউচার মেলা’ আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এ আয়োজন করে শাখা ছাত্রদল।

সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবহন চত্বরে মোট আটটি ভাউচারের স্টল বসানো হয়েছে। একটি মূল ফটক রাখা হয়েছে। ফটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের ছবি পেছনে রেখে ‘ভাউচার মেলা’ নাম দিয়ে একটি ব্যানার সাঁটানো হয়েছে। সেখানে ‘কোথায় তোমার ভাউচার?’, ‘রাকসু ভাউচার দিতে পারেনি!’ ‘হিসেবের ভাউচার নেই’—কিছু লেখা ও ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন দেখা গেছে।

আলোকবাতি দিয়ে আটটি স্টল সাজানো হয়েছে। প্রতিটি স্টলে রাকসুর ভিন্ন ভিন্ন কার্যক্রমের সদৃশ ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ও লেখা দিয়ে ব্যানার সাঁটানো হয়েছে। ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রতিটি স্টলের ব্যানারে ভিপি-জিএস এর নাস্তার বিল সম্পর্কিত বিল, সেলাই মেশিন ও কর্মশালা ভাউচার, সভা-সেমিনার, বিতর্ক আয়োজন বাবদ ভাউচার, ডেকোরেটর, সাউন্ড ও প্রজেক্টের ভাড়া ভাউচার, কাওয়ালি দলের ভাউচার, বেলচা ক্রয় ভাউচার, নেপাল ট্যুর ভাউচার, রাকসু গেম ভাউচার, ওয়েলফেয়ার ছাদ ভাড়া ভাউচার লেখা হয়েছে। 

মূল ফটক দিয়ে মেলার ভিতরে প্রবেশ করতেই একটি টাকার লকার সদৃশ ছবি টাঙানো হয়েছে। যেখানে ‘সবার হিসেব মেলে, আমার হিসেব মেলে না’ লেখা রয়েছে। আটটি স্টলে আলাদা আলাদা ভাউচার রাখা আছে। একটি স্টলে কিছু কাগজ ও ককশিট দিয়ে তৈরি টাকার বান্ডেল রাখা আছে। ভাউচারগুলোতে লেখা আছে— সেলাই মেশিন ও কর্মশালা, ভিপি-জিএস এর নাস্তার বিল, বেলচা ক্রয়, নিউজ জড়ো, সাংবাদিকদের দেখে নেওয়া ও জন্মনিরোধক সামগ্রী ক্রয়, ওয়েলফেয়ার ছাদ ভাড়া ও বিবিধ, কাওয়ালি দলের ভাড়া ও আমন্ত্রিত অতিথি (শিশির মনির, ব্যারিস্টার ফুয়াদ) ভাতা, গরুভোজ ড্রাই ফুডস হানি নাটস ও বিবিধ, সভা সেমিনার, বিতর্ক আয়োজন বাবদ। এছাড়া সেখানে ‘চোর চোর রাকসু ভিপি টাকা চোর’, বাংলা সিনেমার ‘চোর’সহ বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক গান বাজতে শোনা গেছে।

আয়োজন নিয়ে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, ‘রাকসুর তহবিল থেকে এক কোটি বেশি টাকা উত্তোলন করা হলেও ৬১ লক্ষ টাকার হিসাব দেওয়া হয়নি। এরপর থেকে আমরা জানতে পারি রাকসুর প্রতিনিধিদের ভুয়া ভাউচার বানানোর হিড়িক পড়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপন খবর যেন বাইরে না যায় সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় অসাধারণ শিক্ষার্থীরা এই আয়োজন করেছে। তাদের যদি কোনো ভুয়া ভাউচার লাগে তাহলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভাউচার সোসাইটি তার ব্যবস্থা করবে এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

বিজয়-২৪ হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গাজী ফেরদৌস হাসান বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি রাকসুর ভিপি, জিএস, এজিএস ফান্ড থেকে টাকা উত্তোলন করেও তার ভাউচার জমা দেয়নি এখন যেহেতু তাদের ভাউচার লাগবে এই খরচগুলো দেখানো জন্য ভাউচার মেলার আয়োজন করা হয়েছে।’

এর আগে, গতকাল সন্ধ্যায় রাকসুর তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ করে শাখা ছাত্রদল।

জানা যায়, রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়-সংক্রান্ত নথি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বর্তমান পরিষদ ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করেছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার কোনো বিল-ভাউচার এখনো জমা পড়েনি। সবচেয়ে বেশি হিসাব বকেয়া রয়েছে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নামে। তিনি ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ভাউচার জমা দেননি। 

আরও পড়ুন

×