ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১১ বছর পর জানা গেল চালানে ৭ কেজির বেশি কোকেন ছিল

১১ বছর পর জানা গেল চালানে ৭ কেজির বেশি কোকেন ছিল
×

চট্টগ্রাম বন্দর (ফাইল ফটো)

 আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৪ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৫৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম বন্দরে তরল কোকেন জব্দের ঘটনার ১১ বছর পর জানা গেল চালানে ১৫ দশমিক ৫৬ পাউন্ড, অর্থাৎ সাত কেজি ১১০ গ্রাম কোকেন ছিল। বাংলাদেশে এই পরিমাণ কোকেন ১২০ কোটি টাকায় বিক্রি করা যায়। আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজির ল্যাব থেকে চট্টগ্রাম সিআইডিতে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে সিআইডির নিজস্ব ল্যাব এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ল্যাব থেকে এখনও প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি।

২০১৫ সালের ৭ জুন চট্টগ্রাম বন্দরে বলিভিয়া থেকে আসা সূর্যমুখী তেলের দুটি কনটেইনার থেকে ৩৭০ লিটার তরল কোকেন জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় ২৭ জুন বন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও চোরাচালান আইনে মামলা করে পুলিশ।

প্রথমে মামলাটি তদন্ত শুরু করে বন্দর থানা পুলিশ। পরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবিতে) স্থানান্তর হলে সেখানে পরিদর্শক, তারপর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ও সর্বশেষ র‍্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন। চার্জশিটে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। বাকি অভিযুক্তরা হলেন নুর মোহাম্মদের ভাই মোস্তাক আহম্মদ, কসকো-বাংলাদেশ শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপক এ কে এম আজাদ, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মেহেদী আলম, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল, প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেল, পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের ফজলুর রহমান ও মৌলভীবাজারের বকুল মিয়া।

মামলাটির কার্যক্রম চলছিল চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে। কার্যক্রম চলাকালে গোলাম মোস্তফা সোহেল নামে এক আসামি জব্দ করা তরল কোকেন নয় এবং ওজনে অস্পষ্টতা রয়েছে উল্লেখ করে ২০১৯ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট গত বছর জব্দ করা তরল কোকেন হলে ওজন কত, তা নির্ধারণ করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন।

২০২৫ সালের ২১ জুলাই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালত মামলাটি নতুন করে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। আদেশে উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকায় জব্দ করা উপাদান মাদকের মধ্যে পড়ে কিনা কিংবা কী পরিমাণ কোকেন রয়েছে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। তাই সিআইডি চট্টগ্রামকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপর তিনটি সংস্থায় আলামতসহ চিঠি লিখে সিআইডি। আমর্স ফোর্সেস ল্যাব থেকে কোকেনের ওজনসহ প্রতিবেদন আসে সিআইডিতে। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি চট্টগ্রাম মহানগরের এসআই ইমাম হাসান আমর্স ফোর্সেস ল্যাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী চালানে ১৫.৫৬ পাউন্ড কোকেন ছিল। এটি যে মাদক, তাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

সিআইডি চট্টগ্রামের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনার আলোকে এগুলো কোকেন এবং ওজন কত, তাও আমরা ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছি। সেই অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি চেয়েছি। অনুমতি পেলেই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’

২০২০ সালে সর্বশেষ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা র‍্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী বর্তমানে কারাগারে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালত ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত করা হয়। আবার তদন্ত যাওয়ায় চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার আপাতত শেষ হচ্ছে না।

আরও পড়ুন

×