পেটে গজ রেখে সেলাই ৫১ দিন পর নারীর মৃত্যু
কনিকা মণ্ডল
সমকাল প্রতিবেদক ও বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৬ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৩৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
অস্ত্রোপচারের পর এক প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ৫১ দিন পর মারা গেছেন ভুক্তভোগী কনিকা মণ্ডল (৩৫)। গত বুধবার রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বাঘুতিয়া গ্রামের কনিকার স্বামীর বাড়িতে যান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলার কারণে কনিকার মৃত্যু হয়ে থাকলে ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কনিকার ৫২ দিনের শিশুকন্যা অদ্রিজা মণ্ডলের ভরণপোষণে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি। এ সময় ব্যক্তিগত তহবিল থেকে কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডলের হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন।
_1787377171.jpg)
কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডল বলেন, গত ২৯ জুন প্রসবব্যথা উঠলে তাঁর স্ত্রীকে ফরিদপুর শহরের নীলটুলী এলাকার সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের কনসালট্যান্ট এবং স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ সার্জন লক্ষ্মী রানী দত্ত অস্ত্রোপচার করে কনিকার কন্যাসন্তান প্রসব করান।
অশান্ত মণ্ডল আরও জানান, অস্ত্রোপচারের পরদিনই কনিকার পেট ফুলে যায়। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে ৪ জুলাই কনিকাকে ঢাকার কল্যাণপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কনিকার দেবর সমীর মণ্ডল বলেন, ঢাকায় ভর্তির পর ৭ জুলাই সার্জারি বিশেষজ্ঞ আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। তখন তারা জানতে পারেন, কনিকার পেটে গজ রেখেই সেলাই করা হয়েছিল। ওই দিনই অস্ত্রোপচার করে গজটি বের করা হয়।
পাশে থাকার আশ্বাস জেলা প্রশাসকের
কনিকা রেখে গেছেন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া কন্যাশিশু ৫২ দিনের অদ্রিজা মণ্ডল এবং ১৫ বছরের ছেলে পার্থ ও ৯ বছরের ছেলে অংকনকে। অদ্রিজাকে লালনপালন করছেন তাঁর মাসি দীপিকা বিশ্বাস। তবে স্বজনরা মা-হারা এই তিন শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কনিকার বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল হক, বালিয়াকান্দির ইউএনও চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফারুক হোসেন।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন গতকাল অদ্রিজাকে কোলে তুলে নেন। এ সময় অদ্রিজা ও পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি
ঘটনা তদন্তে রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন এস এম মাসুদকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে কমিটি গঠন করা হয় বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোববার থেকে তদন্তকাজ শুরু হয়ে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
- বিষয় :
- মৃত্যু