ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নির্জন ১৩০ মিটার সড়কে ব্যয় ৩৫ লাখ টাকা, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

নির্জন ১৩০ মিটার সড়কে ব্যয় ৩৫ লাখ টাকা, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
×

চারঘাটের মুক্তারপুর এলাকার ১৩০ মিটার এই নির্জন সড়কে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার তোলা সমকাল

চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথম শ্রেণির রাজশাহী চারঘাট পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙাচোরা সড়কের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে একটি নির্জন এলাকায় সড়ক নির্মাণে বিপুল টাকা ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার মুক্তারপুর এলাকায় মাত্র ১৩০ মিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে ৩৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সদ্য নির্মিত সড়কটির আশপাশে তেমন জনবসতি নেই এবং কোনো যানবাহনও চলাচল করে না। শুধু পদ্মা নদীর তীরে যাতায়াতের জন্য নির্মিত এ সড়কে এত টাকা খরচের যৌক্তিকতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

জানা গেছে, মুক্তারপুর-ইউসুফপুর প্রধান সড়ক থেকে পদ্মা নদীর তীর পর্যন্ত আরসিসি ও পাথরের ঢালাইয়ে সাড়ে চার মিটার প্রশস্ত ও ১৩০ মিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতি মিটারে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ২৪৬ টাকা। ইন্টিগ্রেটেড আরবান গভর্নেন্স অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আইইউজিআইপি)-এর আওতায় এডিবির অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করেছে জুয়েল ইলেকট্রনিক্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া কাজটি চলতি আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে শেষ হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মুখলেসুর রহমান ও মোজাফফর হোসেন জানান, পৌরসভার যেসব এলাকায় মানুষের নিত্যদিনের চলাচল বেশি, সে সব সড়ক এখনও কাঁচা ও ভাঙাচোরা। অথচ যেখানে লোকালয় নেই, সেখানে এত দামি রাস্তা তৈরি করা অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর চারঘাট উপজেলা সভাপতি মো. কামরুজ্জামান একে ‘অপরিকল্পিত উন্নয়ন’ ও সম্পদ অপচয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে চারঘাট পৌরসভার প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, মুক্তারপুর থেকে সারদা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ছাড়পত্র না পাওয়ায় আপাতত অনুমোদিত ১৩০ মিটার অংশই নির্মাণ করা হয়েছে।
পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মজিবুর রহমান জানান, ভবিষ্যতে এলাকাটিতে বসতি গড়ে উঠতে পারে। কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি, ছোটখাটো ত্রুটি সংশোধন করিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পৌর শহরের বিভিন্ন রাস্তা আছে যেগুলো অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। এসব সড়কে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। সড়কগুলো সংস্কারের অভাবে বেহাল। খানাখন্দ আর গর্তে ভরা এসব সড়কে সহজে চলাচল করা যায় না। 
অথচ স্থানীয় একটি নির্জন সড়কের পেছনে এত বিশাল অঙ্কের টাকা ব্যয় করা হলো। তার পরেও সেটি খুব ভালোভাবে করা হয়নি। এটিকে অর্থের অপচয় বিবেচনা করেই ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। দায়িত্বশীলরা যদি কাজের ক্ষেত্রে গুরুত্বের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে না পারেন তবে অর্থ ব্যয় হলেও জনদুর্ভোগ কমবে না।

আরও পড়ুন

×