ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নির্মাণাধীন সড়কের ইট-খোয়া উঠে খানাখন্দ, ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল

নির্মাণাধীন সড়কের ইট-খোয়া উঠে  খানাখন্দ, ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল
×

 টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫১

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেলদুয়ার-লাউহাটী-সাটুরিয়া সড়ক নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ঠিকাদার নিরুদ্দেশ হয়ে গেলে সড়কটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। মাঝপথে নির্মাণকাজ বন্ধ হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছেন জনসাধারণ।

অভিযোগ রয়েছে, আদালতে রিট পিটিশন দাখিল, সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা, ঠিকাদারদের উদাসীনতায় নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। পরে সময় বাড়ালেও সরকার পতনের কারণে সড়কের কাজ আর এগোয়নি। এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে টাকা না পাওয়ায় সড়কের জমি থেকে স্থাপনা সরিয়ে নেননি অনেকে। ফলে নির্মাণকাজ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সরেজমিন দেখা গেছে, সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। দেলদুয়ার থেকে ফাজিলহাটি হয়ে লাউহাটী পর্যন্ত রাস্তার কোথাও কোথাও বৃষ্টিতে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ইট, খোয়া উঠে গেছে। খানাখন্দে ভরা সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। আপাতত যাত্রীবাহী বড় বাস চলাচল না করলেও সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচল রয়েছে। মাঝে মধ্যেই রাস্তায় ঝাঁকুনিতে এক্সেল ভেঙে যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে। টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বিশাল জনপদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সড়ক। মাঝপথে নির্মাণকাজ বন্ধ হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছেন ওইসব এলাকার মানুষ।

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্যমতে, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি ২৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ ফুট প্রশস্ত দেলদুয়ার-লাউহাটী-সাটুরিয়া সড়ক নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ কাজ শুরু করে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের টাঙ্গাইল অংশের ২৪ দশমিক ৬৫০ কিলোমিটার সড়কের কাজ শুরু করে জয়েন্ট ভেঞ্চার (আইসিসিএল ও র‍্যাব আরসি)। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া অংশের কাজ ধরে এনডিই নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
এদিকে নির্ধারিত সময়ে কাজ না করা ও নানা অনিয়মের কারণে আইসিসিএল ও র‍্যাব আরসি নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তবে চুক্তি বাতিলের বিরুদ্ধে আদালতে রিট পিটশন দাখিল করেন তারা।

আইসিসিএল ও র‍্যাব আরসি নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নান ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে কোনো বিল পাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে একাধিকবার দেন-দরবার করেও বিল ছাড় করানো সম্ভব হয়নি। তাছাড়া ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় কাজের গতি সচল রাখা যায়নি। রাস্তার পাশের স্থাপনাগুলো সরিয়ে না দেওয়ায় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। নানা প্রতিকূলতায় নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। আবার নতুন করে কাজ শুরু করতে পারবেন বলে আশা তাঁর।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রুহুল আজম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই কাজের গতি স্তিমিত হয়ে পড়ে। বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও ঠিকাদার কাজ পুরোদমে শুরু না করায় এবং তাদের না পাওয়ায় আইসিসিএল ও র‍্যাব আরসি নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে পুনঃদরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিযুক্ত করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমেরীর ভাষ্য, টাঙ্গাইল অংশের ২৪ দশমিক ৬৫০ কিলোমিটারের মধ্যে ১২ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যাদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে আদালতে করা রিট বাতিল হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়াধীন।

আরও পড়ুন

×