রাকসুর তহবিলের অর্থ উত্তোলনে অসঙ্গতির অভিযোগ, তদন্তসহ ৭ দাবি রাবি ছাত্রদলের
সংগৃহীত ছবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:২১
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) সদস্যদের বিরুদ্ধে আর্থিক অসঙ্গতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সাতটি দাবি জানিয়েছে শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীমের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়ে এই দাবি জানান তারা।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে রাকসু তহবিল থেকে উত্তোলিত টাকার ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করতে হবে; খাত না দেখিয়ে, যথাযথ বিল-ভাউচার ছাড়া উত্তোলিত অর্থের বিষয়টি জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে; রাকসু ফান্ডের সংশ্লিষ্ট সকল আর্থিক কাগজপত্রের স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত বা অডিট করতে হবে; তদন্তের প্রয়োজনে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত বা অডিট কমিটি গঠন করতে হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ করতে হবে; তদন্তে অর্থ দুর্নীতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; অনিয়মের মাধ্যমে ব্যয় বা আত্মসাৎ প্রমাণিত হলে সেই সমুদয় অর্থ উদ্ধার করে রাকসু ফান্ডে পুনরায় জমা দিতে হবে; ভবিষ্যতে রাকসু ফান্ডের অর্থ ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত অডিট, আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ, প্রতিটি ব্যয়ের বিপরীতে বাধ্যতামূলক বিল-ভাউচার এবং শিক্ষার্থীদের কাছে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
স্মারকলিপিতে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, রাকসুর ৪২টি কর্মসূচিতে তহবিল থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উত্তোলন করা টাকার ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টরা নিজেদের ইচ্ছামতো অর্থ উত্তোলন করেছেন এবং উত্তোলিত অর্থের একটি বড় অংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়নি।
রাকসু কোনো সংগঠনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় উল্লেখ করে তারা বলেন, রাকসু কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান এবং রাকসু ফান্ডের অর্থ মূলত শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য। ফলে শিক্ষার্থীদের অর্থের প্রতিটি টাকার স্বচ্ছ হিসাব, বৈধ খাত ও ব্যয়ের প্রমাণ থাকা বাধ্যতামূলক। সোয়া কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়ে থাকলে সেই অর্থ কোথায়, কীভাবে, কোন খাতে এবং কার অনুমোদনে ব্যয় করা হয়েছে, এর পূর্ণাঙ্গ জবাব সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই দিতে হবে।
স্মারকলিপির বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম সমকালকে বলেন, উপাচার্য মহোদয়ের অনুপস্থিতিতে ছাত্রদল রাকসুর অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। এখানে রাকসুর বিরুদ্ধে আর্থিক বিধি না মেনে তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের অনেকগুলো অভিযোগ করা হয়েছে। উপাচার্য রাজশাহীতে ফিরলেই এ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। জনগণের ট্যাক্সের এবং শিক্ষার্থীদের প্রদানকৃত অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।