ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোবারকপুরে আবারও গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ

মোবারকপুরে আবারও গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ
×

গ্যাসক্ষেত্র খননকাজ শুরুর উদ্যোগ। ছবি: সমকাল

পাবনা অফিস

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:৪৬

পাবনার সুজানগর উপজেলার মোবারকপুরে আবারও গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরে কূপ খননের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের আশা করছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুজানগরের আহমেদপুর ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামে অধিগ্রহণ করা ছয় একর জমিতে এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। তবে মূল খননকাজ শুরু হবে ২০২৮ সালের জুনের মাঝামাঝি। সবকিছু ঠিক থাকলে ওই বছরের শেষ দিকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, মোবারকপুর এলাকায় একাধিকবার ভূকম্পন জরিপে গ্যাসের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এবার উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। কূপ খনন ও রিগ ফাউন্ডেশন নির্মাণের জন্য চীনের সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিডিসি) সঙ্গে চুক্তি করেছে বাপেক্স।

এর আগে ২০১৪ সালে মোবারকপুরে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরে কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে নির্দিষ্ট গভীরতায় পৌঁছানোর পর ভূগর্ভে অতিরিক্ত গ্যাসের চাপ দেখা দিলে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির অভাবে খননকাজ বন্ধ হয়ে যায়। ওই প্রকল্পে প্রায় ৮৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, আগের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এবার আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও উন্নত ড্রিলিং ব্যবস্থা ব্যবহার করে ৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরে খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে ১ হাজার ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে শ্রীকাইল ডিপ-১, মোবারকপুর ডিপ-১ ও ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ-১ নামে তিনটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। এর মধ্যে সরকার ৯০৯ কোটি টাকা ঋণ দেবে এবং বাপেক্স নিজস্ব অর্থায়নে দেবে ২২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

মোবারকপুর ডিপ-১ প্রকল্পের পরিচালক ও বাপেক্সের উপমহাব্যবস্থাপক এস এ এম মেরাজুল আলম জানান, বর্তমানে জমি উন্নয়ন ও পাইলিংয়ের কাজ চলছে। ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাইল নির্মাণের কাজ গত ২৭ জুলাই শুরু হয়েছে, যা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, সফলভাবে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলে এই ক্ষেত্র থেকে প্রায় ২০ বছর দৈনিক অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হতে পারে।

সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, গত মার্চে আহমেদপুর মৌজার ছয় একর জমি বাপেক্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×