ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রেবতীর শেষকৃত্য হলো কলকাতায়, অন্য ৬ মরদেহ এলো দেশে

রেবতীর শেষকৃত্য হলো কলকাতায়, অন্য ৬ মরদেহ এলো দেশে
×

বাঁয়ে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার রেবতী সরকার, ডানে বেনাপোল সীমান্তে আসা পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ। ছবি: কোলাজ

যশোর অফিস, সাতক্ষীরা ও কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ২০:১৬ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:১৬

কলকাতার আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দেশে পৌঁছেছে। এর আগে সাতক্ষীরার মো. আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ ভারতের ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হয়।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ভোমরা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কাছে সাজুর মরদেহ হস্তান্তর করে। পরে বিজিবি ও ইমিগ্রেশন পুলিশের উপস্থিতিতে তার ভাই নুরুন্নবী মরদেহ গ্রহণ করেন।

অন্যদিকে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দুই দেশের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহগুলো ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে পৌঁছায়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

পরে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নিয়ে কুষ্টিয়া ও সাভারের উদ্দেশে রওনা হন স্বজনেরা। মরদেহ দেশে ফেরানোর জন্য শনিবার দুপুর ১টার দিকে কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশনারের কার্যালয় থেকে স্বজনেরা রওনা হন। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিও ছিলেন। বেনাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় পৌঁছানোর পর বিজিবি ও ইমিগ্রেশন পুলিশের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে গত ১৯ আগস্ট ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের পাঁচজনের মরদেহ শনিবার বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরেছে। তারা হলেন কুষ্টিয়া সদরের সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছরের ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্ত, শ্বশুর আকরাম আলী এবং সাভারের আহম্মেদ বাবু।

আহম্মেদ বাবুর মরদেহ নিতে আসা তার মেজো ভাই মনির হোসেন বলেন, গত সোমবার রাতে ব্যবসায়িক কাজে কলকাতা যান বাবু। সেখান থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথাও হয়েছিল। কিন্তু কলকাতার ওই হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বুধবার দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে মুঠোফোনে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। পরে হাইকমিশন থেকে পাঠানো ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা বাবুর মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবার জানিয়েছে, তার ও ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্তের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হবে। আর তার স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম আলীর মরদেহ ইসলামি রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে। নয় বছর আগে আফসানাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন দেবাশীষ। ধর্মীয় ভিন্নতা তাদের দাম্পত্য জীবনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। এই দম্পতির ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।

এদিকে দুই সন্তান ভারতে থাকায় গতকাল শুক্রবার কলকাতার নিমতলা ঘাটে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার রেবতী সরকারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

রেবতী সরকারের দেবর তপন সরকার বলেন, রেবতী আমার দাদার স্ত্রী। চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ দিন আগে তিনি ভারতে গিয়েছিলেন। শনিবার তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু লাশ হয়ে ফিরবেন, সেটা ভাবিনি।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ভোমরা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কাছে সাজুর মরদেহ হস্তান্তর করে। ছবি: সমকাল

অন্যদিকে সাজুর মরদেহ দেশে ফেরার খবর পেয়ে শনিবার সকাল থেকেই সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার রাবেয়া গ্রামের বাড়িতে অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনেরা। বাড়ির পাশে তার কবরও প্রস্তুত করা হয়।

সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার বলেন, জোহরের নামাজের পর দাফনের কথা থাকলেও মরদেহ পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হয়েছে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সাজুকে দাফন করা হবে।

ভোমরা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ সজীব বালা বলেন, দুপুরে বিএসএফ ও ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ সাজুর মরদেহ বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। পরে বিজিবি ও ইমিগ্রেশন পুলিশের উপস্থিতিতে তার ভাই নুরুন্নবী মরদেহ গ্রহণ করেন।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন বলেন, মরদেহ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বেনাপোল সীমান্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত ছিল। মরদেহগুলো পেট্রাপোলে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। দেশে পৌঁছানোর পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন

×