ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নে দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে চলবে না: ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নে দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে চলবে না: ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী
×

মাদকবিরোধী সমাবেশে বক্তব্য দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। ছবি: সমকাল

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৩৩ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৫২

মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে একে অপরের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়। সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে পুলিশ, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, আইনজীবী, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে।

রোববার চট্টগ্রামের হালিশহর সিভিক সেন্টারে জেলা পুলিশ আয়োজিত মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ ও নৃশংস ঘটনার পেছনে কোনো না কোনোভাবে মাদকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাংয়ের মতো ভয়াবহ সামাজিক সমস্যার পেছনেও মাদকের প্রভাব রয়েছে। মাদক মানুষের স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি ও মন-মানসিকতা বিকৃত করে এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি ধর্মীয় নেতা ও আলেম-ওলামাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত মাদকের কুফল ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতামূলক বক্তব্য দিতে হবে। শিক্ষকদেরও শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সংবাদকর্মীদের মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদারে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিশোর ও তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ও চতুর্থ ভাষা শেখার সুযোগ, খেলাধুলাকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, মাদক কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের একক সমস্যা নয়; এটি সমাজ, আইনশৃঙ্খলা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।

সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনসহ জেলা পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে মাদকবিরোধী র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
 

আরও পড়ুন

×