প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় সড়ক নির্মাণ, নকশাসহ আট তথ্য চেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের চিঠি
নির্মাণ কাজ বন্ধে বেলার আইনি নোটিশ
ছবি: সমকাল
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:২০
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন সড়কে পরিবেশগত এবং উপকূলীয় ঝুঁকি মূল্যায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বালিয়াড়ির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনকারী কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুসরণের অনুরোধ জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। চিঠিতে বিধিমালা, সরকারি নির্দেশনা এবং আদালতের আদেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা, পরিবেশগত ছাড়পত্রসহ আট ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে।
গত শনিবার প্রকল্প পরিচালক এ এস এম রাশেদুর রহমান এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্সের (এনডিই) জেনারেল ম্যানেজার মো. আরিফুল ইসলামকে এ চিঠি দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্বে) জমির উদ্দিন। তিনি চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার দৈনিক সমকালে ‘কক্সবাজারে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় সড়ক নির্মাণ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা থেকে সায়মন বিচ পয়েন্ট পর্যন্ত সৈকতের দৃশ্যমান বালিয়াড়িতে নির্মাণাধীন সড়কের স্থান পরিবেশ অধিদপ্তর পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সুগন্ধা পয়েন্ট সংলগ্ন সমুদ্র সৈকতের দৃশ্যমান বালিয়াড়িতে খননযন্ত্র দিয়ে বালু সমতল করে সড়ক নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। বালিয়াড়ি সমুদ্র উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। এর স্বাভাবিক গঠন ও ভূ-প্রকৃতি পরিবর্তন করলে উপকূলীয় ক্ষয়, বালু সঞ্চালন, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়জনিত ঝুঁকি এবং উপকূলীয় প্রতিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে নির্মাণাধীন সড়কটির প্রয়োজনীয়তা, অবস্থান, নকশা এবং সম্ভাব্য পরিবেশগত ও উপকূলীয় ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তাই তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা, পরিবেশগত ছাড়পত্র, সড়ক নির্মাণের ফলে বালিয়াড়ির স্বাভাবিক গঠন, বালু সঞ্চালন, উপকূলীয় ক্ষয়, নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক প্রতিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের মূল্যায়ন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি দপ্তরের অনুমোদন ও ছাড়পত্র, নির্মাণাধীন সড়কের জমির মালিকানা-সংক্রান্ত খতিয়ান, দাগ, মৌজা ম্যাপ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ভূমি রেকর্ডসহ আট ধরনের তথ্য পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকতের ১০ হাজার ৪৬৫ হেক্টর এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। বিধিমালা অনুযায়ী এই এলাকায় মাটি, পানি, বায়ু এবং শব্দ দূষণকারী শিল্প বা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংসকারী সব ধরনের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মতি ছাড়া ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না।
চিঠিতে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সংরক্ষণের বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ব্যবস্থাপনা বিধিমালা যে কোনো আইনের ওপর প্রাধান্য পাবে মর্মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়াও সৈকত রক্ষা নিয়ে উচ্চ আদালতের একাধিক নির্দেশনা রয়েছে।

কাজ বন্ধে বেলার আইনি নোটিশ
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা ও নো ডেভেলপমেন্ট জোনে সড়ক নির্মাণের সব কার্যক্রম অনতিবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়ে দুই সচিব, কক্সবাজারের ডিসি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ ১০ জনকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। রোববার বেলার আইনজীবী জাকারিয়া সুলতানা ডাক বিভাগের মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠিয়েছেন।
যাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে তারা হলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্সের (এনডিই) জেনারেল ম্যানেজার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী জাকারিয়া সুলতানা।
নোটিশে বলা হয়েছে, পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ ছাড়া প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তেপক্ষের অনুমোদন ছাড়া নো ডেভেলপমেন্ট জোনে সড়ক নির্মাণ দেশে প্রচলিত আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের নির্মাণ নিষিদ্ধ স্থানে সড়ক নির্মাণের সব কার্যক্রম বন্ধ করে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের সংবেদনশীল পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে না পারা আইন প্রয়োগকারী ও আদালতের রায় বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা চরম ব্যর্থতার পরিচায়ক।
- বিষয় :
- কক্সবাজার
- পরিবেশ অধিদপ্তর
- আইনি নোটিশ