জুয়েলারি দোকানে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর গলাকাটা লাশ
প্রতীকী ছবি
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ২২:০৭
গাজীপুর মহানগরের সাইনবোর্ড-ভূষিরমিল এলাকায় একটি জুয়েলারি দোকান থেকে আবুল কালাম আজাদ (৪২) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে এলাকার সাদিয়া জুয়েলার্সের শাটারের তালা ভেঙে দোকানের ভেতর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবুল কালাম আজাদ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ভোলাইন গ্রামের নোনা মিয়ার ছেলে। তিনি ভূষিরমিল এলাকার আব্দুল গনি রোডের সাদিয়া জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতে নিজের দোকানের ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়েন আবুল কালাম। সাধারণত সকাল ৯টার মধ্যে দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করতেন তিনি। তবে রোববার সকাল পেরিয়ে দুপুর হলেও দোকান বন্ধ দেখতে পান আশপাশের ব্যবসায়ীরা। এতে তাদের সন্দেহ হয়।
পরে নিহতের ভাই মো. কামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় কয়েকজন দোকানের সামনে গিয়ে দেখেন, শাটারে বাইরে থেকে তালা দেওয়া। একপর্যায়ে তালা ভেঙে দোকানের ভেতরে ঢুকে মেঝেতে আবুল কালামের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। তাঁর গলা ও শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
খবর পেয়ে গাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পিবিআই ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
দোকান থেকে কোনো স্বর্ণ, অলংকার বা নগদ টাকা খোয়া গেছে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
পিবিআই গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, ঘটনাস্থলে পিবিআইয়ের একটি দল কাজ করছে। তবে দোকান থেকে কোনো মালপত্র লুট হয়েছে কিনা, রাত ৯টা পর্যন্ত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে আবুল কালাম আজাদকে হত্যা করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
- বিষয় :
- গাজীপুর
- স্বর্ণ
- গলাকেটে হত্যা