ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
প্রধান অতিথি না করায় ভুয়া ‘১৪৪ ধারা’ মাইকিং
প্রতীকী ছবি
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ১০:২২
গ্রামের ৬০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে পছন্দের রাজনৈতিক নেতা ও নিজেকে অতিথি না করায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ‘১৪৪ ধারা জারি’র ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে খেলা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। নাটোরের লালপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গ্রামজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করা ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রদলের ৩ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে জেলা ছাত্রদল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কেশবপুর গ্রামে ছয় দশক ধরে স্থানীয় গ্রামবাসীর উদ্যোগেই নিয়মিত এই ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরাই ঐতিহ্যগতভাবে বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন, যেখানে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোনো ব্যক্তি বিশেষকে অতিথি করা হয় না। ১৫ দিন আগে শুরু হওয়া চলতি আসরে স্থানীয় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাধিক দল অংশ নেয়। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর মহাধুমধামে ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
আয়োজক কমিটির সদস্য মাহবুব জানান, খেলা শুরু থেকেই ছাত্রদল নেতা মারুফ আলী চাপ সৃষ্টি করছিলেন, যাতে গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোলামকে ফাইনাল খেলার প্রধান অতিথি এবং মারুফকে বিশেষ অতিথি করা হয়। কিন্তু আয়োজকরা গ্রামের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বজায় রাখতে ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মারুফ আলী গত শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নিজ দায়িত্বে মাইক ভাড়া করে পুরো গ্রামে রটিয়ে দেন যে, বিবাদের আশঙ্কায় খেলার মাঠে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে এবং সেখানে খেলাধুলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মাইকিংয়ের এই খবরে মুহূর্তের মধ্যে গ্রামে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং আয়োজকরা অনিচ্ছাসত্ত্বেও খেলা স্থগিত রাখতে বাধ্য হন।
ঘটনার পর গ্রামে চরম উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গ্রামপ্রধান আবুল কালাম আজাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া কেউ কোনো এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করতে পারেন না। একজন ছাত্রদল নেতার এমন জঘন্য মিথ্যাচারে পুরো গ্রামের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তবে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত মারুফ আলী ১৪৪ ধারা-সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, এ ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না বলে জানিয়েছেন গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম। তিনি জানান, খেলা বন্ধের ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এ বিষয়ে অভিযুক্ত মারুফকে ডেকে কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে। লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান জানান, এটি মারুফের ব্যক্তিগত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, যার দায় সংগঠন নেবে না। ইতোমধ্যে জেলা ছাত্রদল তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজন বলেন, ‘দায়িত্বশীল পদে থেকে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার অপরাধে তাঁকে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না মিললে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখনও কোনো ভুক্তভোগী বা আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- নাটোর