প্রতিপক্ষের চাপে অবরুদ্ধ ১০ পরিবার ‘সমাজচ্যুত’ করার অভিযোগ
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের কুড়ারপার গ্রামে ১৬ বছর আগের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিরোধে ১০ থেকে ১২টি পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রভাবশালীদের বাধা ও হুমকির মুখে সেখানকার শিশুদের মক্তবে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। নারীরা খাবার পানি সংগ্রহ করতে পারছেন না এবং পুরুষেরা বাজারে গেলেও সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।
গতকাল সোমবার সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে এসব নির্যাতনের হাত থেকে প্রতিকার দাবি করা হয়।
স্থানীয় ও সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০১০-২০১১ অর্থবছরে কুড়ারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামতের কাজে দেওয়া বরাদ্দের ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তৎকালীন বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে জেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ করেন ফখরুল ইসলামসহ স্থানীয়দের কয়েকজন।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় টাকা ফেরত দেন অভিযুক্ত মুজিবুর। এর পর থেকে ফখরুল ইসলাম ও জবরুল ইসলামের গোষ্ঠীসহ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ওপর বিভিন্নভাবে উৎপাত ও হামলা-মামলা শুরু করে মুজিবুর ও তাঁর ভাই মুহিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ৫ মে রাতে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফখরুল ইসলাম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার আসামিদের মধ্যে মুজিবুরসহ ২৬ জন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারেও যান। পরে সেখান থেকে জামিনে বের হন। জামিনে এসে তাঁরা আবারও তাদের ওপর নির্যাতন শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ৪ আগস্ট শামীম আহমদ নামে এক যুবককে মারধর করা হয়। ফখরুল ইসলাম জানান, তাদের অবরুদ্ধ ও ‘সমাজচ্যুত’ করার চেষ্টা চলছে এবং তাদের নামে চারটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হলেও ইতোমধ্যে দুটিতে তাঁরা খালাস পেয়েছেন। এসব ঘটনার কারণে আতঙ্কে রয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মুতলিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারগুলোর ওপর অন্যায় করা হচ্ছে। তাদের ওপর হয়রানি চালানো হচ্ছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করায় প্রতিপক্ষ তাঁকেও হুমকি দিয়েছে।
এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক শিক্ষক মুজিবুর রহমান দাবি করেন, তাদের মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে আরও আগে থেকেই বিরোধ চলমান। সে কারণে শিশুদের মক্তবে যাওয়া, নারীদের খাবার পানি নিতে বাধা দেওয়া বা বাসিন্দাদের কাউকে সমাজচ্যুত বা হয়রানি করা হচ্ছে– এমন অভিযোগ একেবারেই সত্য নয়। তাদের বিতর্কিত করার জন্য এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে কানাইঘাট থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারের ইস্যুতে বিরোধ চলমান। চলাচলে বাধা বা পানি সংগ্রহে বাধা দেওয়ার বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- সমাজ