ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘আমার ছোয়ালডা থাকলো তুই দেখিস’—ফোনের পর আমবাগানে মিলল ব্যবসায়ীর মরদেহ

‘আমার ছোয়ালডা থাকলো তুই দেখিস’—ফোনের পর আমবাগানে মিলল ব্যবসায়ীর মরদেহ
×

স্বজনদের আহাজারি

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:০৯

গেল কয়েক বছর ব্যবসায় মন্দা গেছে। চলতি বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার কেনা পেঁয়াজ পচে গেছে। ব্যাংক ও এনজির ঋণ এবং স্বজনদের ধারদেনার চাপ সইতে না পেরে হারুন অর রশিদ খালেক নামের এক ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পান্টি ইউনিয়নের বিরিকয়া গ্রামে সোমবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। 

খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহত খালেক (৩৮) বিরিকয়া গ্রামের সদর উদ্দিনের ছেলে।

স্বজনদের ভাষ্য, খালেক একজন বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ধান, পাট, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসল কেনা-বেচা করতেন। গেল কয়েক বছর ব্যবসায় লোকসান হচ্ছিল। চলতি বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ পচে গেছে। সব মিলিয়ে ব্যাংক, এনজিও ও স্বজনদের কাছে কয়েক কোটি টাকা ঋণী হয়ে পড়েন। সেই ঋণের চাপ সইতে না পেরে সোমবার রাত ১টার দিকে ছোট ভাই আব্দুল মালেককে মোবাইল ফোনে জানান, ‘আমার ছোয়ালডা থাকলো তুই দেখিস’। এ কথা শুনে মালেক তাঁর অবস্থান জিজ্ঞেস করে। উত্তরে খালেক জানান, সে স্থানীয় শফিউল্লাহর আম বাগানে রয়েছে। এ কথা শুনেই মালেক, তাঁর বাবা ও ভাবি দ্রুত শফিউল্লাহর বাগানে গিয়ে দেখেন একটি আম গাছের ডালে রশিতে ঝুলছেন খালেক। 
ঋণের চাপে ব্যবসায়ীর এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, পান্টি-যদুবয়রা সড়ক ঘেঁষে বিরিকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত ব্যবসায়ী খালেকের বাড়ি। সেখানে আহাজারি করছেন স্বজনরা। উৎসুক জনতা ও প্রতিবেশীরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সময় ছেলের কয়েক কোটি টাকা ঋণের কথা স্বীকার করে খালেকের বাবা সদর উদ্দিন বলেন, গত কয়েক বছর ব্যবসা ভালো যাচ্ছিল না। তাঁর ভাষ্য, ঋণের চাপ সইতে না পেরে খালেক আত্মহত্যা করেছেন।

এ বছর খালেকের প্রায় ৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ পচে গেছে। এ নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তা করতেন বলে জানালেন খালেকের স্ত্রী মালা খাতুন। তিনি বলেন, সংসারে কোনো ঝগড়া-ঝামেলা ছিল না। তবে অনেক টাকা দেনা ছিল। হয়তো সেজন্যই এমন কাজ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেকের এক বন্ধু জানান, খালেক তাঁকে দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করিয়েছেন। এভাবে অনেককে দিয়ে ব্যাংক ঋণ করেছেন তিনি। তাঁর ধারণা, সব মিলিয়ে তিন থেকে চার কোটি টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন খালেক।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের চাপের কারণে ওই ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×