ঢাকা বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

‘ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন’

‘ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন’
×

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরাজীর্ণ ভবনের দেয়ালে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। গত রোববার তোলা সমকাল

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

‘ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন’– উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকতে প্রথমেই চোখে পড়বে এমন নোটিশ। এখন দূরত্ব বজায় রেখে ডাক্তার দেখাব কীভাবে। দোটানায় থাকি, সুস্থ হতে এসে ভবন চাপা পড়ে আবার না মরি। 

বলছিলেন কচুয়া উপজেলার নরেন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা বশির উদ্দিন।
গত রোববার সকালে বাগেরহাট জেলা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় প্রবেশ মুখেই লেখা সতর্কবার্তা। ইতোমধ্যে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। ভবনের ছাদ থেকে মাঝেমধ্যে খসে পড়ে পলেস্তারা, দেয়ালে বড় বড় ফাটল। তবে বিকল্প না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনেই চলছে চিকিৎসা। এতে একদিকে আতঙ্কে রয়েছেন রোগী ও স্বজনরা। অপরদিকে চিকিৎসক-নার্সরাও রয়েছেন ঝুঁকিতে। 

গণপূর্ত বিভাগ ঘোষিত এই পরিত্যক্ত ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে ৩১ শয্যার হাসপাতালের। জরুরি বিভাগের পাশাপাশি চলছে স্বাস্থ্য 
সহকারীদের কার্যালয়, টিকাদান কর্মসূচি, সেবিকা কক্ষ ও ভর্তি রোগীদের জন্য শয্যা। জরাজীর্ণ ভবনটির ছাদ থেকে মাঝেমধ্যে পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেয়ালে বড় বড় ফাটল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্থাপিত হয়। ২০০৫ সালে পাশে ১৯ শয্যার আরেকটি ভবন করে এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। 
জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। এখানে অনুমোদিত ২৯ জন চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৭ জন। বেশ পুরোনো একটি এক্সরে মেশিন দিয়ে চলছে কার্যক্রম। অথচ ৯ মাস ধরে বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে আধুনিক ডিজিটাল এক্সরে মেশিন। ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকায় সাত মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের রোগের পরীক্ষা। আধুনিক অপারেশন থিয়েটার থাকলেও পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে কোনো অপারেশন হয় না এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। 

ফলে সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কচুয়া উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। বাধ্য হয়ে জেলা হাসপাতাল বা বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে তাদের। এতে একদিকে দরিদ্র মানুষের খরচ যেমন বাড়ছে তেমনি ব্যয় হচ্ছে বেশি সময়। 
টেংরাখালী গ্রামের জাহানারা খাতুন বলেন, বৃদ্ধা মাকে নিয়ে তিন দিন ধরে এখানে ভর্তি। হাসপাতালে দুটো ভবন থাকলেও একটি পরিত্যক্ত হওয়ায় মহিলা-পুরুষ সবাইকে এক জায়গায় থাকতে হচ্ছে। শয্যা সংকটের কারণে তারা হাসপাতালের বারান্দাতে জায়গা পেয়েছেন। 

সোলায়মান শেখ নামে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন স্থান থেকে পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। জায়গায় জায়গায় রড বের হয়ে আছে। তা ছাড়া পর্যাপ্ত শয্যা নেই, ফ্যান নেই, বাথরুমের সংকট। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটিতে যে কোনো সময়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। 
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মুশফিকুর রহমান তরফদার বলেন, ভবনের কয়েকটি জায়গা বড় বড় ফাটল ধরেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেবা দিচ্ছি। ভূমিকম্প বা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। 
কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ বলেন, হাসপাতালে চলমান এক্সরে মেশিন দিয়ে ঠিকমতো এক্সরে হয় না। আর নতুন যে এক্সরে মেশিন সরকার দিয়েছে সেটা চালাতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের জোগান নেই। এসব চাহিদার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে চিঠি দিলেও কোনো কাজ হয়নি। 
এ বিষয়ে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহাবুবুল আলম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো থেকে জনগণ যেন সেবা পান সে বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ রয়েছে। হাসপাতালটির সংকট নিরসনে দ্রুতই উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×