প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবি
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
দ্বীপজেলা ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কার্যকর ও সহজ সড়ক যোগাযোগের জন্য ‘ভোলা-বরিশাল সেতু’ নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানায় জেলার উন্নয়ন ও স্বার্থ নিয়ে কাজ করা নাগরিক কমিটি ‘আমরা ভোলাবাসী’।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্য সচিব মীর মোশারেফ অমি। এ সময় সংগঠনটির অন্য সদস্য শরীফ হাওলাদার, সাখাওয়াত শাকিল, মেহেদী হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে ‘রহমতপুর-হিজলা-মেহিন্দীগঞ্জ-ভোলা’ রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর মাধ্যমে ভোলার মানুষের যোগাযোগের ভোগান্তি, সময় ও দূরত্ব কমানোর পরিবর্তে আরও বাড়বে। ঘোষিত ওই প্রকল্পে ২১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ, ৩৬ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা এবং তিনটি বড় সেতু নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয়, সময় ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতুর তুলনায় কতটা যৌক্তিক, তার কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দাবি তোলা হয়।
এ ছাড়া ভোলা-বরিশাল সরাসরি রুট এবং ‘রহমতপুর-হিজলা-মেহিন্দীগঞ্জ-ভোলা’ রুটের দূরত্ব সময়, নির্মাণ ব্যয়, সেতুর সংখ্যা, পরিবহন ব্যয়, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল তুলনা করে পূর্ণাঙ্গ কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা জনগণের সামনে প্রকাশেরও দাবি জানান তারা। তাদের এই দাবি কোনো ব্যক্তি, দল বা এলাকার বিরুদ্ধে নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।
গত শনিবার রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের মাধ্যমে দ্বীপজেলা ভোলাকে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই ঘোষণার পরই পূর্বঘোষিত ভোলা-বরিশাল (ভোলার ভেদুরিয়া থেকে বরিশালের লাহারহাট) সেতু নির্মাণ নিয়ে জনমনে শঙ্কা দেখা যায়।
ভোলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম জানান, প্রস্তাবিত ‘রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা’ রুটে মহাসড়ক নির্মাণের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ভোলাকে সড়ক পথে যুক্ত করতে অনেক আগ থেকেই বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ একাধিবার সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে তেঁতুলিয়া নদীর ওপর প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। যার মাধ্যমে ভোলাকে সড়কে যুক্ত করার পাশাপাশি ভোলার গ্যাস পাইপ লাইনের মাধ্যমে বরিশাল নেওয়ারও পরিকল্পনা ছিল। ২০২৪ সালের তৎকালীন সেতুমন্ত্রী নির্মাণকাজ শুরুর ঘোষণা দিলেও তার বাস্তবায়ন শুরু হয়নি।
- বিষয় :
- দাবি