ঢাকা বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

হাসপাতালে রোগী রেখে ক্লিনিকে সেবা চিকিৎসকের

হাসপাতালে রোগী রেখে ক্লিনিকে সেবা চিকিৎসকের
×

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি হাসপাতালে সরকারি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে পাশের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার সময় আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসককে হাতেনাতে ধরে ফেলেছেন স্থানীয় জনতা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ‘দি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ ঘটনাটি ঘটে। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সহায়তায় অভিযুক্ত চিকিৎসককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়।

অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম মোর্শেদুল ইসলাম। তিনি আক্কেলপুর ৫০ শয্যা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের আউটডোরে রোগী দেখা অবস্থায় একটি ফোন পান মোর্শেদুল ইসলাম। ফোন পাওয়ার পরপরই চেম্বারে লাইনে থাকা রোগীদের রেখে চত্বর থেকে বের হয়ে যান। দীর্ঘক্ষণ পার হলেও না ফেরায় অনুসরণ করে দেখা যায়, তিনি পাশের ‘দি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ প্রাইভেট রোগী দেখছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা ও রোগীরা তাঁকে ওই সেন্টারে অবরুদ্ধ করে ফেলেন।

হাসপাতালে অপেক্ষমাণ রোগী কারিমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর ডাক্তার সাহেব একটি ফোন পেয়ে চা খাওয়ার কথা বলে উঠে যান। পরে শুনি তিনি পাশের প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখছেন।’ স্থানীয় বাসিন্দা সিফাত হোসেন অভিযোগ করেন, ওই চিকিৎসক প্রায়ই ডিউটি চলাকালে বাইরে গিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখেন, যার ফলে সাধারণ দুস্থ রোগীরা সরকারি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

দি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক রাসেল হোসেন স্বীকার করেন, ডা. মোর্শেদুল তাদের প্রতিষ্ঠানে এসে রোগী দেখেছেন। তবে ডিউটি চলাকালে আসার বিষয়টিকে তিনি চিকিৎসকের ‘ব্যক্তিগত বিষয়’ বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোর্শেদুল ইসলাম জানান, ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে একটি ফোন পেয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে ডিউটি ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সে সময় হাসপাতালে চেম্বারের সামনে কোনো রোগী ছিল না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের সহায়তায় ওই চিকিৎসককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন আল-মামুন জানান, ডিউটি সময়ে বাইরে প্র্যাকটিস করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তসাপেক্ষে অভিযুক্ত চিকিৎসক মোর্শেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×