ঢাকা বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

গোয়েন্দাদের সতর্কতা উপেক্ষা করে নেতানিয়াহুর পরামর্শে ইরানে হামলা চালান ট্রাম্প

গোয়েন্দাদের সতর্কতা উপেক্ষা করে নেতানিয়াহুর পরামর্শে ইরানে হামলা চালান ট্রাম্প
×

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:১৮

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার গোয়েন্দা প্রধান, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক উপদেষ্টাদের স্পষ্ট সতর্কতা সত্ত্বেও গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন। উপদেষ্টারা সতর্ক করেছিলেন, এই সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি করতে পারে এবং ইরানে আরও কট্টরপন্থি নেতৃত্বের উত্থান ঘটাতে পারে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের (ডব্লিউএসজে) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

যুদ্ধ-পূর্ববর্তী বৈঠকগুলোর বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ডব্লিউএসজে জানিয়েছে, তৎকালীন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর তুলসী গ্যাবার্ড ট্রাম্পকে বলেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হলে সম্ভবত একজন আরও ‘কট্টরপন্থি’ উত্তরসূরির আগমন ঘটবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারে তারা। প্রণালিটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ এবং এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস বাণিজ্য পরিচালিত হয়।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আরও ‘সতর্ক’ দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তার যুক্তি ছিল, ‘অপ্রীতিকর পরিণতি’ ডেকে আনা কোনো যুদ্ধের চেয়ে একটি কূটনৈতিক চুক্তি অনেক কম ব্যয়বহুল হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে ‘চূড়ান্ত’ হামলার বিকল্পগুলো সম্পর্কে অবহিত করলেও, অন্যান্য কর্মকর্তারা গোলাবারুদ ঘাটতি এবং ‘অতিরিক্ত চাপে থাকা বাহিনীর’ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প এসব উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘সামরিক বাহিনী যেকোনো উদ্ভূত সমস্যা মোকাবিলা করতে পারবে।’

শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরামর্শে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার নির্দেশ দেন। ট্রাম্প যুদ্ধটি ছয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা এখন প্রায় ছয় মাসে গড়িয়েছে। এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে, তার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই।

ডব্লিউএসজে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে যুদ্ধের শুরুতে বেশ সন্তুষ্ট ছিলেন এবং মার-এ-লাগোতে একটি তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর খবর পেয়ে ‘বুক ফুলিয়ে’ গর্ববোধ করেছিলেন।

তবে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়ার এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরব ও কাতারের মতো আঞ্চলিক নেতারা হোয়াইট হাউসকে কূটনৈতিক সমাধানের জন্য চাপ দিতে থাকেন। অভ্যন্তরীণ জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধ অবসানের জন্য একটি চুক্তির পক্ষে ছিলেন, যা ট্রাম্পকে জুনে অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতির দিকে এগোতে বাধ্য করে।

অনেক রিপাবলিকান নেতাও ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের সম্ভাবনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। 

সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

আরও পড়ুন

×