ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধর্ষণের বিচার সালিশে

৯০ হাজার টাকায় ‘রফাদফা’, কিশোরীর পরিবার পেল ২০ হাজার টাকা

৯০ হাজার টাকায় ‘রফাদফা’, কিশোরীর পরিবার পেল ২০ হাজার টাকা
×

প্রতীকী ছবি

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:৩৬ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:০৬

হবিগঞ্জের মাধবপুরে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর থানায় মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয়ভা সালিশের মাধ্যমে অভিযুক্তকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিষয়টি ‘রফাদফা’ করার চেষ্টা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, নির্ধারিত ওই অর্থের মধ্যে এখন পর্যন্ত তারা মাত্র ২০ হাজার টাকা পেয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধবপুরের রাজা মিয়ার ছেলে হানিফ মিয়া তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। গত ২০ আগস্ট দুপুরে পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন তিনি। 

পরিবারের দাবি, কিশোরীর চিৎকার শুনে তার মা ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত হানিফ সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা কিশোরীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হলেও থানায় অভিযোগ না করে স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার স্থানীয় ইউপি সদস্য আবেদুর রহমান আবেদের মধ্যস্থতায় একটি সালিশ হয়।

স্থানীয়রা জানায়, ওই সালিশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের এক সাবেক চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ধর্ষণের অভিযোগের আইনগত নিষ্পত্তির পরিবর্তে অভিযুক্তের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ওই অর্থ ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তারা পেয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা।

ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। মামলা চালাব কীভাবে, সেই চিন্তা থেকেই মেম্বার আবেদুর রহমানের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। ৯০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার কথা বলা হলেও আমরা এখন পর্যন্ত হাতে পেয়েছি মাত্র ২০ হাজার টাকা।’ 

সালিশ বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আবেদুর রহমান আবেদ বলেন, ‘ওই সালিশে স্থানীয় অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। ৯০ হাজার টাকার মধ্যে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা দেওয়ার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে বাকি টাকা দেওয়া হবে।’  

তবে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ‘মীমাংসা’ করার ঘটনায় আইনজীবী ও সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। আইনজীবী মোজাম্মেল হক রাসেল বলেন, ‘ধর্ষণের মতো ঘটনা কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। স্থানীয় সালিশে অর্থের বিনিময়ে এ ধরনের অভিযোগ মীমাংসা করার সুযোগ নেই।’ 

এদিকে ঘটনার বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ থানায় যোগাযোগ করেনি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। 

আরও পড়ুন

×