চট্টগ্রামের পটিয়া
সিসি ক্যামেরা দেখার নাম করে বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ২২:১০
চট্টগ্রামের পটিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে লুটপাট চালিয়েছে ডাকাতরা। গত রোববার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার খরনা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলী মিয়ার বাপের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে সোমবার পটিয়া থানায় এজাহার দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ছয়-সাতজন মুখোশধারী অস্ত্রধারী পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের বাড়িতে ঢোকে। তারা বলছিল, ‘এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি হচ্ছে। বাড়ির সিসি ক্যামেরা দেখতে এসেছি।’ বিশ্বাস করে ঘরে দরজা খুলে দিতেই অস্ত্রের মুখে বাড়ির সবাইকে জিম্মি করে বিভিন্ন কক্ষে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করা হয়। যাওয়ার সময় বাড়ির সিসি ক্যামেরার ডিবিআর মেশিনও নিয়ে যায় ডাকাতরা।
বাড়িতে থাকেন সিরাজুল ইসলাম ও প্রবাসী জসিম উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা। জসিম উদ্দিন ও তাঁর ভাতিজা নুরুল ইসলাম রুবেল সৌদি আরবে থাকেন। জসিম প্রায় ২০ দিন আগে সৌদি আরব যান। নুরুল ইসলাম রুবেল বর্তমানে দেশে আছেন।
রুবেলের স্ত্রী রাজিয়া বেগম বলেন, রাত আড়াইটার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ির সামনে এসে নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দেন। এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি হচ্ছে। এ কারণে বাড়ির সিসি ক্যামেরা দেখতে এসেছেন বলে জানান। তাদের কথা বিশ্বাস করে দরজা খুলে দেন। তাঁর ভাষ্য, ‘তারা ঘরে ঢুকেই আমার ছেলে, ছেলের বউ ও স্বামীকে বেঁধে ফেলে। নিচতলায় তিনজন ও ওপরের তলায় তিনজন উঠে যায়। পরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আলমারি খুলতে বলে। তারা আমার প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণ, ছেলের বউয়ের প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণ ও ছেলের ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।’
পরে একজন রাজিয়ার গলায় ছুরি ধরে, আরেকজন অস্ত্র তাক করে তাঁকে দেবর জসিম উদ্দিনের ঘরে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমার মোবাইল ফোন দিয়ে জসিমের নম্বরে ফোন করতে চাপ দেয়। পরে আমি জসিমকে দরজা খুলতে বলি। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে মুখোশ পরা আরও চারজন ঘরে ঢুকে পড়ে।’
জসিমের স্ত্রী নিলু আকতার বলেন, ‘ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে আমাকে মাথায় থাপ্পড় দিয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। পরে তারা সিসি ক্যামেরার ডিবিআর মেশিন খুলে নিয়ে যায়। এরপর প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণ ও নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।’
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ডাকাতরা সিসি ক্যামেরার ডিবিআর মেশিন নিয়ে যাওয়ায় বাড়ির ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ তাদের হাতে নেই। তবে আশপাশের বাড়ি ও সড়কে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা গেলে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক জিয়া বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি এজাহার পেয়েছেন। বিষয়টির তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
- বিষয় :
- পটিয়া