সড়কে বাইক আটকে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
অভিযোগ স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে
জাহেদুল ইসলাম
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৮ | আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় জাহেদুল ইসলাম ওরফে জাহেদ (৩০) নামের আট মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত রোববার রাতে দক্ষিণ পুরানগড় গ্রামে ভাঙ্গারগোড়া ফরিদ সওদাগরের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীরা সড়কে গাছ ফেলে মোটরবাইকের গতিরোধ করে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
জাহেদুল ইসলাম কালীনগর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি ২০১১ সালের ২৫ আগস্ট ধর্ষণের ঘটনা দিয়ে অপরাধজগতে জড়ান। তারপর খুন, মাদক ব্যবসা, অস্ত্রসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে আটবার কারাগারে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৫ আগস্ট রাতে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন কার্যালয়ের সামনে থেকে দুটি আকাশমণি গাছ চুরি হয়। সেগুলো বাজালিয়া ইউনিয়নের শেরেবাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে বন বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে নিলামের মাধ্যমে ২৫ হাজার ৫০০ টাকায় গাছ দুটি বিক্রি করা হয়। এর কয়েক দিন পর রাতের আঁধারে গাছগুলো কাটার মুহূর্তের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রদল নেতা জয়নাল আবেদীন মানিক গাছ চুরির সঙ্গে জাহেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন।
আরও জানা যায়, নতুনহাটে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার রাতে পুরানগড় ইউনিয়ন বিএনপির সংগঠক জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রস্তুতিমূলক সভার আয়োজন করা হয়। রাত ৮টার দিকে জাহেদ নতুনহাটে গেলে মানিককে দেখে গাছ চুরির ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে চড়-থাপ্পড় মারেন। মানিকসহ সেখানে থাকা অন্যরা জাহেদকে ধাওয়া দিলে তিনি পালিয়ে যান। রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাহেদ ও তাঁর বন্ধু মোহাম্মদ ওয়াহিদ বাজালিয়া থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, দক্ষিণ পুরানগড় ভাঙ্গারগোড়া ফরিদ সওদাগরের দোকানের সামনে পৌঁছালে মানিক ও পুরানগড় ইউনিয়ন যুবদলের সংগঠক রিদোয়ান ইসলাম লোকজন নিয়ে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে মোটরসাইকেলটি থামান। এরপর দেশি অস্ত্র দিয়ে জাহেদকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যান। আশপাশের মানুষ তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জাহেদের মামা শাহেদ আলী বলেন, ‘জসিম, রিদোয়ান, মানিক, টিপু, হাবীব, রাজা মিয়া ও তাঁর ছেলেসহ অন্তত ৬০ জন আমার ভাগিনাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করব।’
এ ঘটনায় জাহেদের মোটরসাইকেলে থাকা ওয়াহিদ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনায় আমার জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। কারা করেছে, জানি না।’
উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী রাজীব ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, অভিযোগ প্রমাণ হলে আলোচনা করে তার বা তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে সাংগঠনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, অভিযুক্ত বেশ কয়েকজনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের পাওয়া যাযনি। জাহেদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।
নামের মিলে দিনভর গুজব
নামের মিলে দিনভর গুজব চলে, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) এক নম্বর শীর্ষ দুষ্কৃতকারী পিচ্চি জাহেদ খুন হয়েছেন। কাকতালীয়ভাবে নাম ও দুই ব্যক্তির গ্রামের ঠিকানা একই হওয়ায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় খবরও। তবে সমকাল দুজনের অপরাধের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়, গত রোববার সাতকানিয়ায় খুন হওয়া জাহেদুল ইসলাম আর সিএমপির শীর্ষ দুষ্কৃতকারী মো. জাহেদ ওরফে পিচ্চি জাহেদ এক ব্যক্তি নন। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশও একই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, সাতকানিয়ায় খুন হওয়া জাহেদুল ইসলাম আর সিএমপির শীর্ষ ১ নম্বর দুষ্কৃতকারী পিচ্চি জাহেদ একই ব্যক্তি নন। এ নিয়ে অপতথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
- বিষয় :
- হত্যা