কুয়েটে শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় সোয়া ১১ লাখ টাকা, ভাবুন তো—শিক্ষাখাতে সরকারের কতো বড় বিনিয়োগ
কুয়েটের ২৩তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:১৩ | আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:১৪
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে সরকার ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয় করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সরকারের এই বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন কতটা আসছে, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে কুয়েটের ২৩তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ভিসির কাছে জানতে চাইলাম, আপনার স্টুডেন্টের কস্ট কত? তিনি হিসাব করে দিলেন ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পার স্টুডেন্ট। এই টাকা সরকার দিচ্ছে। এই টাকা দিয়েই কিন্তু প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়তে হতো। সেই টাকাটা দিতে হতো তাকে, নিজেকে।’
তিনি বলেন, ‘একবার ভেবে দেখেন, সরকার শিক্ষাখাতে কত বড় বিনিয়োগ করছে। ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা একটি ছেলের পেছনে খরচ করছে। এই হিউজ ইনভেস্টমেন্টের রিটার্নটা কী? সেটা আমাদের বুঝতে হবে। আমরা শুধু ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করব, বিউটিফুল ক্যাম্পাস বানাব—তা না।’
মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থান অর্জন করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও অ্যালামনাই কার্যক্রম আরও উন্নত করতে হবে। বিশ্ব প্রতিযোগিতায় মেধার কারণে নয়, যথাযথ প্রচেষ্টা ও সিস্টেমের সঠিক প্রয়োগের অভাবে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, ‘ইউরোপ-আমেরিকার মানুষের মতো একই উপাদান দিয়ে সৃষ্টিকর্তা আমাদেরও সৃষ্টি করেছেন। তাই নিজেদের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি লেখাপড়া ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান অর্জন করতে হবে।’
জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে পড়াশোনায় উৎসাহ দিতে প্রধানমন্ত্রী উপহার দেওয়ার কথা ভাবছেন বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করতে উপহার হিসেবে পিংক সাইকেল দেওয়ার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানান তিনি।
কুয়েটের ইতিহাস তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার থাকাকালে ২০০৩ সালে দেশের চারটি বিআইটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজের, মা-বাবা, দেশ ও পুরো জাতির জন্য অবদান রাখতে হলে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণায় মনোনিবেশ করে নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, সরকার সময়োপযোগী, আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া ও গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত হবে—এটাই সরকারের প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, এআইয়ের যুগে প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। যুগের পরিবর্তনকে মেনে নিয়ে প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে যেতে হবে।
কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাজাহান আলী ও ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাসান আলী।
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী প্রীতি সমাবেশ, আনন্দ র্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।