চার শর্ত পূরণ না হলে কোনো সরকারি প্রকল্প নয়: অর্থমন্ত্রী
করদাতাদের টাকার অপচয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না
ছবি: সমকাল
চট্টগ্রাম ব্যুরো ও চুয়েট সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৩৮
সরকারি প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে চারটি বিষয় বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অর্থের সঠিক মূল্য পাওয়া যাচ্ছে কিনা, বিনিয়োগ থেকে কী ধরনের রিটার্ন আসবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে কি না এবং পরিবেশগত দিক রক্ষা করা হচ্ছে কি না- এসব বিষয় নিশ্চিত না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘যেকোনো সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে করদাতার টাকার সঠিক ব্যবহার ও প্রতিদান নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রকল্প অনুমোদনের আগে আমি চারটি বিষয় নিশ্চিত করি- অর্থের সঠিক মূল্য পাওয়া যাচ্ছে কি না, বিনিয়োগ থেকে কী রিটার্ন আসবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে কিনা এবং পরিবেশগত দিক রক্ষা করা হচ্ছে কিনা। এই চার শর্ত পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প আমার কাছে আনবেন না, আমি ফেরত পাঠিয়ে দেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো বাংলাদেশের সাধারণ করদাতাদের টাকা। কোনো অবস্থাতেই এর অপচয় মেনে নেওয়া হবে না।’
আইটি ইনকিউবেটর নিয়ে প্রশ্ন
চুয়েটের আইটি ইনকিউবেটার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, সেখানে বড় ধরনের অবকাঠামোগত বিনিয়োগ হয়েছে। তবে সেই বিনিয়োগ থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তার ভাষ্য, একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তিন পক্ষের নিয়ন্ত্রণ থাকলে কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হতে পারে। যেহেতু আইটি ইনকিউবেটারটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই এর পরিচালনা ও সেখান থেকে কী ধরনের ফলাফল পাওয়া যাবে, সেই পরিকল্পনা চুয়েটকেই করতে হবে।
আমির খসরু বলেন, ‘ঢাকায় ফিরে আমি আইসিটি মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সঙ্গে কথা বলব। চুয়েটের উপাচার্যকেও ঢাকায় এসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে এ জটিলতার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে পরামর্শ দিচ্ছি।’
এ সময় তিনি চুয়েটের উপাচার্যের উদ্যোগ ও চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতার প্রশংসা করেন। প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে অল্প সময়ে চুয়েটকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আয়োজন
চুয়েটের ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও শাখা থেকে ব্যানার নিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা চত্বরে সমবেত হন। পরে সেখান থেকে আনন্দ র্যালি বের করা হয়।
বেলা সোয়া ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আয়োজনে যোগ দেন প্রধান অতিথি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরসহ অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
বেলা সাড়ে ১২টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে স্মারক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সংযোগ লাইনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
দুপুর ১টায় আলহাজ জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশনের উপহার হিসেবে দেওয়া ছয়টি বাসের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে বাসগুলোর চাবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।
পরে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে চুয়েটের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, দেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। তাদের মেধা ও দক্ষতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউটিপির পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান আইআর. ড. মোহাম্মদ আজুয়ান বিন মাওনসার। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম।
এ সময় চুয়েটের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালকসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রথম দিনে ক্লাব ফেস্ট ও জ্বালানি বিষয়ক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। বিষয়ভিত্তিক আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউটিপির পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আজুয়ান বিন মাওনসার। এতে জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট শিক্ষক, গবেষক, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন।