স্বামীর কবরের পাশে ফিরোজ বেগমের দাফন, পরিবারের দায়িত্ব নেবেন প্রতিমন্ত্রী
ফিরোজা বেগমের জানাজা
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:৫৩
সরকারি গাড়ির ধাক্কায় নিহত ফিরোজা বেগমের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ওই দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জানাজা শেষে স্বামীর কবরের পাশে ফিরোজ বেগমকে দাফন করা হয়। জানাজায় ছেলে, মেয়ে, প্রতিবেশী, নিকটাত্মীয়-স্বজন ছাড়াও প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে কালাই ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত নিজামুদ্দীন সরকারের স্ত্রী। তাঁর দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ে।
জানাজার আগে কালাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহীম হোসেন মণ্ডল প্রতিমন্ত্রীর বরাত দিয়ে বলেন, প্রতিমন্ত্রী নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি সব দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহতের ছেলে-মেয়েরা ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখছেন। এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। বয়স্ক ফিরোজা বেগম অসাবধানতাবশত মহাসড়ক পার হতে গিয়ে গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতের বড় মেয়ে শিরি বেগম জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর বাড়িতে যাওয়ার জন্য মোবাইল ফোনে শেষ কথা হয় মায়ের। শুক্রবার সকালে সেখানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। শিরি বেগমের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া গ্রামে। এই বাড়ি থেকে কয়েকশ গজ দূরে হরিপুর এলাকায় বগুড়া-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়ক পার হওয়ার সময় প্রতিমন্ত্রীর সরকারি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন ফিরোজা বেগম। গাড়িটি দুর্ঘটনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের ধানক্ষেতে নেমে যায়। দুর্ঘটনায় দুই পায়ে ব্যথা পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর গাড়িচালকও আহত হয়েছেন। ফিরোজা বেগমকে বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।
স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফিরোজা বেগমের বড় ছেলে ফেরদৌস হোসেন কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। ছোট ছেলে সেলিম সরকার কৃষিকাজ করেন। পাঁচ মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলেদের সঙ্গেই থাকতেন তিনি।
ছেলের বউ রিপা বেগম বলেন, মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য শাশুড়ি মা সকাল থেকেই তাড়াহুড়া করছিলেন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আধাঘণ্টাও পার হয়নি, এর মধ্যে লোকজন এসে বলে তিনি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগে আহত হয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। সেখানে যাওয়ার জন্য আমরা বাড়ি থেকে বের হতেই খবর আসে তিনি মারা গেছেন।
বড় মেয়ে শিরি বেগম বলেন, মা আগের রাতেই আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। আমি মায়ের কথাগুলো ভুলব কেমনে!
- বিষয় :
- জয়পুরহাট
- প্রতিমন্ত্রী
- দাফন