ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কোটি টাকা চুরির পর ‘বিশ্বাস ভঙ্গ করিনি’–লেখা সেই চালকসহ গ্রেপ্তার ৩

কোটি টাকা চুরির পর ‘বিশ্বাস ভঙ্গ করিনি’–লেখা সেই চালকসহ গ্রেপ্তার ৩
×

কোটি টাকা চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫৮ | আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:০৩

পোশাক কারখানা ল্যাভেন্ডার গ্রুপের চেয়ারম্যান চীনা এক ব্যবসায়ীর কোটি টাকা চুরির ঘটনায় তার গাড়িচালক জাহিদ হাসানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৯৭ লাখ টাকা। গ্রেপ্তার অন্য দু’জন হলেন-ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাঞ্চননগরের দাউদ হোসেনের ছেলে মো. আক্তারুজ্জামান (৫১) ও জাহিদ হাসানের স্ত্রী নাসিমা আক্তার (২৪)।

গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে চীনা ব্যবসায়ীর গাড়ি থেকে এক কোটি টাকা নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক জাহিদ হাসান। পরে চীনা ব্যবসায়ীর মোবাইল নম্বরে ইংরেজিতে একটি খুদে বার্তা পাঠিয়েছিলেন গাড়িচালক। খুদে বার্তার কারণ হলো- কারখানার শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার জন্য ওই টাকা ব্যাগভর্তি করে গাড়িতে রেখেছিলেন তার মালিক। পরে গাড়িতে থাকা এক কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন তিনি।

খুদে বার্তায় গাড়ি চালক জাহিদ হাসান লিখেছেন, ‘আমি দুঃখিত স্যার। আমাকে ভুলে যাবেন। আপনার গাড়ি লে ডি’ অর কফি শপের পার্কিংয়ে রেখে গেছি। আমি আপনার প্রতি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব। উপরওয়ালা জানেন, আমি জীবনে কারও বিশ্বাস ভঙ্গ করিনি। তবে আমাকে এটি করতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি জানি না, বাঁচব কি–না। যদি বেঁচে থাকি, আপনার টাকা ফেরত দেব। আমি এখন কাঁদছি। কারণ, আমি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি।’ 

গাজীপুরের শিল্প পুলিশের এসপি মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রূপগঞ্জের ক্যাডেট ক্লাবের সামনে চীনা ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত গাড়িচালক জাহিদ হাসান পরিকল্পিতভাবে ওই টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। পরে ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন লিমিটেডের প্রশাসন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আকরামুল ইসলাম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এরপর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জাহিদ হাসানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে একজন নারী। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে ৯৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। বাকি টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন কারখানার শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য খরচের জন্য এক কোটি টাকা বহন করা হচ্ছিল বলে জানান শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা। পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। উদ্ধার করা টাকা ও গ্রেপ্তারদের রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শিল্প পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে ঝিনাইদহ সদরের একটি বাসা থেকে জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে নগদ ৮৬ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে জাহিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার মামা আক্তারুজ্জামানকে ঝিনাইদহ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে আরও এক লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া জাহিদের স্ত্রী নাসিমা আক্তারের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় আরও ১০ লাখ টাকা।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদ জানিয়েছেন, চুরি করা টাকার মধ্যে এক লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। এর মধ্যে নতুন বাসা ভাড়া নেওয়া, আসবাবপত্র কেনা এবং ৩৩ হাজার টাকা দিয়ে একটি মোবাইল ফোন কেনার খরচ রয়েছে। পুলিশ ওই আসবাবপত্র ও মোবাইল ফোনও জব্দ করেছে।

আরও পড়ুন

×