ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় ১০ শ্রমিকের মৃত্যু

ট্যাঙ্ক পরীক্ষা না করে সনদ দিয়েছিল বিস্ফোরক অধিদপ্তর

ট্যাঙ্ক পরীক্ষা না করে সনদ দিয়েছিল বিস্ফোরক অধিদপ্তর
×

ছবি: সমকাল

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৩২

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে জাহাজের ট্যাঙ্ক পরীক্ষা না করেই সনদ দিয়েছিল বিস্ফোরক অধিদপ্তর। ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তদন্ত প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।

ওই দুর্ঘটনার পর শিল্প মন্ত্রণালয় ও বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বোর্ডে (বিএসআরবি) দুই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। দুই প্রতিবেদনে ৪৪টি সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) শফিউল আলম তালুকদার শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দুটি প্রতিবেদনই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।

স্ক্র্যাপ জাহাজে ব্যালাস্ট ওয়াটার ট্যাঙ্কে বিষাক্ত গ্যাসে কারও প্রাণহানির ঘটনা আগে কখনও হয়নি উল্লেখ করে শফিউল আলম তালুকদার বলেন, এ রকম দুর্ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর কাজ করছে। ইয়ার্ড মালিকের গাফিলতির বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্ঘটনার পর ইয়ার্ডের ৩০০ শ্রমিক বেকার হয়ে গেছেন। তাদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি মন্ত্রণালয় খতিয়ে দেখবে।

বুয়েটের তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনায় জাহাজের ওয়াটার ব্যালাস্ট ট্যাঙ্কে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি উঠে এসেছে। এমটি রাশি নামে ওই জাহাজের ট্যাঙ্ক পরীক্ষা না করেই বিস্ফোরক অধিদপ্তর সনদ দিয়েছিল। গ্যাস পরিমাপের মনিটর থাকলেও তা ব্যবহার করা হয়নি।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মালিক বা কর্তৃপক্ষের গাফিলতির বিষয়টি। প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্যাস পরীক্ষা ছাড়া ছুটির দিনে কাটা হচ্ছিল জাহাজ। ১৪ আগস্ট সাপ্তাহিক ছুটির দিন কাজ করা ঠিক হয়নি। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না রেখে ব্যালাস্ট ট্যাঙ্ক কাটার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছিল না।

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, মন্ত্রণালয় ও বুয়েটের প্রতিবেদনে যথাক্রমে ৩৫ ও ৯ সুপারিশ এসেছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিষাক্ত গ্যাসজনিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জাহাজ ভাঙা শিল্পে কাজভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়ন, নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত ডি-ব্যালাস্টিং পদ্ধতি এবং কাজের অনুমতিপত্র (পিটিডব্লিউ) কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। ব্যালাস্ট ট্যাঙ্কের বায়ু, বিভিন্ন স্তরের পানি ও বর্জ্য পরীক্ষা করে সম্ভাব্য বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকি নিরূপণ এবং কাজ চলাকালে নিয়মিত বা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। গ্যাস মনিটর ও গ্যাস অ্যালার্ট ব্যবহার করতে হবে। ইয়ার্ডে আধুনিকায়নের ঘাটতি ছাড়াও ইয়ার্ড মালিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সুপারিশে বলা হয়েছে।

শিপ রিসাইক্লিং গবেষক ও ইপসার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী শাহীন বলেন, দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি হয়। কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসা সুপারিশগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়ন বা মনিটর করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা কমে আসবে। প্রতিবেদনগুলোর ফলোআপ করা না হলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে না।

গত ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডের এলএনজি স্ক্র্যাপ জাহাজে ওয়াটার ব্যালাস্ট ট্যাঙ্কে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। 

আরও পড়ুন

×