ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্মানির তালিকায় জালিয়াতি

ইমামের জায়গায় ক্যাশিয়ার, মুয়াজ্জিন রূপপুরের শ্রমিক

ইমামের জায়গায় ক্যাশিয়ার, মুয়াজ্জিন রূপপুরের শ্রমিক
×

ফাইল ছবি

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:১০

পাবনার ঈশ্বরদীতে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য সরকারঘোষিত মাসিক সম্মানির তালিকা তৈরিতে জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মসজিদের প্রকৃত ইমাম ও মুয়াজ্জিনের নাম বাদ দিয়ে কৌশলে সেখানে বসানো হয়েছে পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দুই শ্রমিকের নাম।

উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দীঘা জান্নাতুন-নুর জামে মসজিদে সংঘটিত এই জালিয়াতির খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ রোববার উপজেলাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দেশজুড়ে প্রতিটি মসজিদের ইমামকে পাঁচ হাজার, মুয়াজ্জিনকে তিন হাজার এবং খাদেমকে দুই হাজার টাকা করে সরকারি সম্মানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রথম পর্যায়ে ঈশ্বরদীর প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি করে মসজিদের তালিকা চাওয়া হলে সাহাপুর ইউনিয়নের দীঘা জান্নাতুন-নুর জামে মসজিদের একটি ভুয়া তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা পরিষদে জমা দেওয়া হয়।

তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মসজিদের মূল ইমাম মাওলানা আজিবার হোসেনের নাম সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে সেখানে বসানো হয়েছে মসজিদ পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ মমিনুল ইসলাম পিন্টু প্রামাণিকের নাম। এ ছাড়া মসজিদে কোনো স্থায়ী মুয়াজ্জিন বা খাদেম না থাকা সত্ত্বেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক আনজারুল সরদারকে ‘মুয়াজ্জিন’ এবং একই প্রকল্পের নিরাপত্তাকর্মী আতিয়ার রহমানকে ‘খাদেম’ সাজিয়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় মুসল্লি আমিরুল ইসলাম সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের হকের টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে এই জালিয়াতি করা হয়েছে। ভাতার জন্য যাদের নাম দেওয়া হয়েছে তারা কেউ এই মসজিদের নিয়মিত মুয়াজ্জিন বা খাদেম নন।’

জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকবর মোল্লা সাফাই গেয়ে বলেন, ‘ইমাম আজিবার হোসেন আগে থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি প্রকল্পের ভাতা পান। নতুন তালিকায় তাঁর নাম দিলে বাদ পড়ে যাওয়ার শঙ্কায় কোষাধ্যক্ষ মমিনুল ইসলামের নাম দেওয়া হয়েছে। আর কোনো নিয়মিত মুয়াজ্জিন বা খাদেম না থাকায় টাকাটা যেন হাতছাড়া না হয়, সে জন্য আনজারুল ও আতিয়ারের নাম যুক্ত করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন সভাপতি আব্দুল হামিদ।

সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এমলাক হোসেন বাবু বিশ্বাস জানান, ইউপি সদস্য মহাবুল ইসলাম ও মসজিদ কমিটি এই তালিকা বানিয়ে পরিষদে জমা দিলে তা উপজেলায় পাঠানো হয়। ভুয়া তালিকার দায় এড়িয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব জানান, তালিকা করার দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদকে দেওয়া হয়েছিল। সরকারি সম্মানির তালিকায় এমন অনিয়ম ও অসততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×