ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

র‌্যাব পরিচয়ে জবির সাবেক ছাত্রীকে আটকের চেষ্টা, নেপথ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব

র‌্যাব পরিচয়ে জবির সাবেক ছাত্রীকে আটকের চেষ্টা, নেপথ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব
×

ছবি: ফাইল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৪৭

পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকায় আজ রোববার সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রীদের একটি মেসে র‌্যাব পরিচয়ে অভিযান চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় নাট্যকলা বিভাগের সাবেক এক শিক্ষার্থী মমতাজ আরা বর্ষাকে র‌্যাবের গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিনা পরোয়ানায় সাদা পোশাক পরিহিত অবস্থায় এ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে এই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই চলে যান র‌্যাবের সদস্যরা। 

মমতাজ আরা জানান, সকাল ৬টার দিকে কয়েকজন মেসে এসে নিজেদের র‌্যাব সদস্য পরিচয় দেন। প্রথমে তারা নিজেদের পরিচয় না দিয়ে দরজা খোলার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে দরজায় ধাক্কাও দেন। যে পাঁচ-ছয়জন এসেছিলেন, তারা তাদের আইডি কার্ড দেখাননি। তারা সবাই সিভিল পোশাকে এসেছিলেন। মেসে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী পরিচয় ও আসার কারণ না জানা পর্যন্ত দরজা খুলতে চাননি। পরে ওই ব্যক্তিরা নিজেদের র‌্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে ঘটনাটি জানান। পরে পুলিশ আসে এবং র‌্যাব পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে। কিছুক্ষণ পর র‌্যাবের কয়েকটি গাড়িও আসে। এরপর তাঁর কক্ষ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।

মমতাজ আরার অভিযোগ, পরে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা রয়েছে এবং তাঁকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি মামলার কাগজ বা ওয়ারেন্ট দেখতে চাইলে তাঁকে বলা হয়, সরাসরি মামলার ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টের প্রয়োজন হয় না। এক পর্যায়ে তাঁর ফোন নিয়ে তাঁকে একটি গাড়িতে তোলা হয়। গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের পরিচয় জানতে চান। পরিচয়পত্র, নাম ও যোগাযোগের তথ্য জানতে চাওয়া হলেও তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁর ফোন ফেরত দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাঁকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। 

ঘটনাটি পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটতে পারে বলে মমতাজ আরার দাবি। তাঁর বোনের সাবেক স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই বিরোধের কারণে তাদের পরিবারকে আগে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় আগে সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর সাবেক বোনজামাই র‌্যাব ও ডিবির সঙ্গে আইটি-সংক্রান্ত কাজ করেছেন। 

জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সকালে শিক্ষার্থীদের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সূত্রাপুর থানার ওসিকে বিষয়টি জানাই। পরে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে আসেন। র‌্যাব পরিচয়ে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে প্রথমে সন্দেহ তৈরি হলেও পরে সেখানে আরও র‌্যাব সদস্য আসেন। শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, একজন শিক্ষার্থীকে র‌্যাবের গাড়িতে তোলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলি এবং শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলি। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা থাকলে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ মুহূর্তে আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি আইন অনুযায়ী তদন্ত হবে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার পেছনে কোনো অনিয়ম বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. তারেক বিন আতিক বলেন, সকালে একজন শিক্ষার্থী ফোন করে মেসে র‌্যাব পরিচয়ে লোকজন আসার বিষয়টি জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে প্রথমে ওই ব্যক্তিরা ভুল করে সেখানে এসেছেন বলে জানান। পরে তারা চুরির মামলার আসামি ধরতে এসেছেন বলে জানান এবং এর মধ্যে একজন শিক্ষার্থীকে র‌্যাবের গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, আমরা সেখানে গিয়ে দেখি শিক্ষার্থীকে গাড়িতে উঠানো হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা বলি, শিক্ষার্থী এখান থেকে যাবে না। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ থাকলে প্রক্টর অফিস ও উপাচার্যকে জানিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সূত্রাপুর থানার ওসি আনোয়ার বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে যারা এসেছিল, তারা র‌্যাবের সদস্য ছিল এবং একটি মামলার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিল। পরে আমরা জানতে পারি, এটি পারিবারিক বিরোধের কারণে করা একটি মামলা। পরে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়ে তারা চলে যায়।

আরও পড়ুন

×