ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বর্ণ বিক্রির কথা বলে ডেকে নিয়ে ৩৮ লাখ টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৯

স্বর্ণ বিক্রির কথা বলে ডেকে নিয়ে ৩৮ লাখ টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৯
×

প্রতীকী ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:০৭

রাজধানীর ধানমন্ডিতে অস্ত্রের মুখে এক ব্যবসায়ীর ৩৮ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে তিনজন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। এছাড়া এ চক্রে বর্তমান এক সেনা সদস্যও রয়েছেন। তার বিষয়ে বাহিনীকে অবগত করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজনকে ঘটনার সময় হাতেনাতে এবং বাকিদের পটুয়াখালী, ঢাকার দক্ষিণখান, মোহাম্মদপুর, বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন—তানভীর আবেদীন (৪১), মজিবুর রহমান (৬০), জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির (৬০), সোলায়মান মৃধা (৫৫), মোহাম্মদ কবির হোসেন (৫০), আবুল কালাম আজাদ (৫০), জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিন (৪০), সজল চৌধুরী (৩১) ও সায়মুন চৌধুরী (৩৩)। 

আজ রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন।

সাবেক সেনা সদস্যদের বিষয়ে ফারুক হোসেন বলেন, ‘মজিবুর রহমান সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। মোহাম্মদ জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির সেনাবাহিনীর অনারারি ক্যাপ্টেন পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। আর সোলায়মান সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার পদ থেকে অবসর নিয়েছেন।’ তাদের মধ্যে কেউ কেউ এক সময় র‌্যাবে কর্মরত ছিলেন বলে জানান তিনি। এ চক্রে সেনাবাহিনীর একজন ল্যান্স করপোরালও রয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।

বর্তমান সেনাসদস্যের বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ওসি মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘ঘটনায় জড়িত বর্তমান এক সেনাসদস্যের বিষয়ে সেনাবাহিনীকে অবগত করেছি। তার বিরুদ্ধে হয়তো সেনা আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত ৩০ অগাস্ট দুপুরে ধানমন্ডি ১২ নম্বর সড়কে ডিঙ্গি রেস্তোরাঁর সামনে খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৮-১০ জনের একটি দল অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ডাকাতির অভিযোগে খোরশেদ আলম একটি মামলা দায়ের করেন এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন ধানমন্ডি থানা-পুলিশ। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তানভীর আহমেদ জুয়েল ও মজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি রিভলভার উদ্ধার করা হয়। পরে মজিবুর ও তানভীরের দেওয়া তথ্যে দক্ষিণখান থেকে জাকিরকে এবং পরে আরও ৬ জনকে বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম কমিশনার ফারুক হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম স্বর্ণ কেনার জন্য টাকা নিয়ে ওই চক্রের সদস্যদের সঙ্গে ধানমন্ডিতে দেখা করতে গিয়েছিলেন। স্বর্ণ লেনদেনের জন্য তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভুক্তভোগীকে রিকশায় ধানমন্ডির ডিঙ্গি রেস্তোরাঁর সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই এলাকায় আগে থেকেই লেলিনের নেতৃত্বে চার-পাঁচজনের একটি দল অবস্থান করছিল। এরপর চক্রটি রিকশার গতিরোধ করে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে মারধর করে। পরে কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

যুগ্ম কমিশনার বলেন, গ্রেপ্তার জাকারিয়ার কাছ থেকে লুট হওয়া ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫০ টাকা এবং সজল চৌধুরীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রে জড়িত পলাতকদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। গ্রেপ্তার তানভীরের বিরুদ্ধে চারটি ও সজলের বিরুদ্ধে ছয়টি ডাকাতি ও ছিনতাই মামলা এবং জাকারিয়ার বিরুদ্ধে মাদক ও হত্যাচেষ্টার দুটি মামলা রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এই ঘটনায় জড়িতদের কয়েকজন স্বর্ণ কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত। তারা স্বর্ণ কিনতে চাওয়া ক্রেতা সংগ্রহ করেন। তারা জানান, তাদের কাছে স্বর্ণ আছে। যদি স্বর্ণ কিনতে চান, তাহলে টাকা নিয়ে আসেন। এরপর তারা একটি জায়গায় বসে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। পরে স্বর্ণ ও টাকা বিনিময় করার জন্য যখন নির্ধারিত জায়গায় যান, তখন পরিকল্পনা করে ডাকাতি করেন।’

গ্রেপ্তারদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে বলে জানায় পুলিশ।

আরও পড়ুন

×