রংপুরে মাজারের খাদেম হত্যা
হাইকোর্টে ৫ জেএমবি সদস্য খালাস, দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৪৯
এগারো বছর আগে রংপুরের কাউনিয়ায় সুরেশ্বরী মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় জজ আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি শেষে আজ রোববার এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন- নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশের ( জেএমবি) দুই সদস্য রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মো. মাসুদ রানা ওরফে মামুন এবং মো. লিটন মিয়া ওরফে রফিক। হাইকোর্টে খালাস পাওয়া জেএমবির পাঁচ সদস্য হলেন- ইছাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল, সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান, উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার বিজয় ওরফে আলী ওরফে দরজি এবং চান্দু মিয়া।
আসামিপক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট মো. আতিকুল ইসলাম সেলিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমীন সিদ্দিকী।
২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার সময় কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয় মাজার শরীফের খাদেম রহমত আলীকে। পরে নিহতের ছেলে অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মামুন অর রশীদ ২০১৬ সালের ৩ জুলাই জেএমবির রংপুর আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুনসহ জেএমবির ১৪ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। যার মধ্যে আসামি পঞ্চগড়ের নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান ২০১৬ সালের ১ আগস্ট রাতে রাজশাহীতে এবং কুড়িগ্রামের সাদ্দাম হোসেন ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ঢাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। শুনানি শেষে বিচারক নিহত দুইজনকে বাদ দিয়ে ১২ জনের নামে অভিযোগ গঠন করেন।
২০১৮ সালের ১৮ মার্চ মামলার রায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে খালাস দেওয়া হয়। আসামিদের মধ্যে মাসুদ রানা, ইছাহাক আলী, লিটন মিয়া ও সাখাওয়াত হোসেনকে রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোসি হত্যা মামলায়ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
- বিষয় :
- হাইকোর্ট
- মৃত্যুদণ্ড
- রংপুর
- হত্যা মামলা