তিব্বতে সেই কাস্টমস ভবনের চিহ্নও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না
ধ্বংস হয়ে যাওয়া গিরং বন্দরে খননযন্ত্র দিয়ে উদ্ধারকাজ চালান কর্মীরা। শনিবার চীনের তিব্বতে। ছবি: এএফপি
রয়টার্স
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৪০ | আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৪৭
হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় ভয়াবহতার একটি প্রতীকে পরিণত হয়েছিল চীন ও নেপাল সীমান্তের গিরং বন্দর। রোববার সেখানে উজ্জ্বল কমলা পোশাক পরা চীনা উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতা দেখা যায়। কিন্তু পাঁচতলা সেই কাস্টমস ভবনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
রোববার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রথমবারের মতো বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদেরকে তিব্বতের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ দেয়। সেখানে দেখা যায়, পাঁচতলা কাস্টমস ভবনটির কোনো চিহ্নই নেই। দুর্যোগের আগে যেসব ভবন ছিল, সেগুলোর মধ্যে কেবল একটি পানির টাওয়ারের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে।

সীমান্ত পারাপারে এক সময়কার ব্যস্ত বন্দরটিতে ২০ মিটার উঁচু একটি ফটক ছিল। সেখানে এখন উদ্ধারকর্মীরা চীনের জাতীয় পতাকা টানিয়ে রেখেছেন। পাশের একটি বোর্ডে লেখা- ‘বিপজ্জনক এলাকা, দ্রুত পার হোন’। বন্যার পর কয়েক’শ মানুষ এখনো নিখোঁজ। তাদের সন্ধান ও পুনরুদ্ধারকাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদেরকে সেখানে বেলচা ও খননযন্ত্র দিয়ে মাটি খুঁড়তে দেখা গেছে।
জটিল উদ্ধার অভিযান
তিব্বতের গিরং কাউন্টি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতায় অবস্থিত। তবে স্থলবন্দরটি তুলনামূলক নিচু এলাকায়- প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায়। ভূমিধসের ঝুঁকি, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কাদার স্তরের কারণে উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে গেছে।
গিরংয়ে যাওয়ার একমাত্র স্থলপথটি গত বুধবার সকালে চালু হয়। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য কর্মীরা অস্থায়ী খুঁটি বসিয়ে এলাকাটিকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করছেন।
_1788698317.png)
চীনা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি সাতটি ভাগে ভাগ করেছেন। এর মধ্যে চারটি এলাকায় অনুসন্ধান শেষ হয়েছে। তিনটিতে এখনো কাজ বাকি।
গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও চীনে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এখনো নিখোঁজ ৫ হাজারের বেশি। এর মধ্যে চীনের অংশে শুক্রবার পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ ৫৩১ জনের মধ্যে ২৩টি দেশের ২৬১ জন নাগরিক আছেন।
তীর্থযাত্রার পথ
নেপাল-তিব্বতে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে গিরং বন্দর গত এক দশকে গুরুত্বপূর্ণ পথে পরিণত হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাজারো হিন্দু তীর্থযাত্রী এই সীমান্ত পথ দিয়ে যাতায়াত করেছেন।
অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেপাল হয়ে তিব্বতের কৈলাস পর্বতে যান। হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয় ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি পবিত্র স্থান। হিন্দুদের বিশ্বাস, কৈলাস পর্বতে দেবতা শিব ও তাঁর স্ত্রী পার্বতীর চিরস্থায়ী আবাস।
বেইজিংয়ে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, তিব্বতে নিখোঁজ থাকা বিদেশিদের অনেকেই তীর্থযাত্রী ছিলেন। তাদের পরিবারের সদস্যরা ভারতে আছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতের নাগরিক ৪৯ জন।