৯ দিন ধরে জলকপাট খোলা
কাপ্তাই হ্রদে পানি কমলেও স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি
কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ে দিয়ে পানি ছাড়া হচ্ছে
কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:০৭
৯ দিন ধরে ১৬ জলকপাট খুলে রাখা হলেও কাপ্তাই হ্রদের পানি স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছেনি। তবে পানি আগের চেয়ে কমেছে এবং তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে ডুবে থাকা ঘরবাড়ি, জমিজমা ভেসে উঠতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে রাঙামাটির ঝুলন্ত ব্রিজ ভেসে উঠায় পর্যটক চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বলবৎ থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হ্রদে পানির উচ্চতা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে পারে।
পিডিবি সূত্র জানায়, বর্তমান অবস্থা বলবৎ থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জলকপাট দিয়ে পানি ছাড়া বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী তারেক আহমেদ জানান, রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানি রয়েছে ১০৫ দশমিক ৫ ফুট ‘মিন সি লেভেল’ (এমএসএল)। পানির চাপ কমে যাওয়ায় বর্তমানে স্পিলওয়ের ১৬ গেট দিয়ে পানি ছাড়ার পরিমাণ ৬ ইঞ্চিতে নেমে এসেছে। এতে প্রতি সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি নদীতে পড়ছে।
কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রেখে দৈনিক ২২০ থেকে ২২২ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এতেও প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলীতে পড়ছে। কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটে উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহামুদ হাসান জানান, কাপ্তাই হ্রদে পানি ধারণক্ষমতা বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে যায়। চাপ কমাতে গত ২৯ আগস্ট রাতে বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। পানির চাপ বাড়তে থাকায় এ সময় পানি ছাড়ার পরিমাণও চার দফা বাড়ানো হয়েছিল। সর্বশেষ গত রোববার সকাল ১০টা থেকে কর্তৃপক্ষ স্পিলওয়ের ১৬ গেট দিয়ে তিন ফুট করে পানি ছাড়তে বাধ্য হয়। তবে বৃষ্টিপাত কমে আসায় হ্রদে পানির চাপ কমতে থাকে। ফলে পানি ছাড়ার পরিমাণও ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাত না হলে কয়েক দিনের মধ্যে হ্রদে পানির উচ্চতা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।
কাপ্তাই হ্রদে পানির ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। পানি এই মাত্রায় চলে এলে পুরো অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়ে।
- বিষয় :
- কাপ্তাই