ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাড়ে তিনশ লোকের দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ, প্রতারক আটক

সাড়ে তিনশ লোকের দুই কোটি  টাকা আত্মসাৎ, প্রতারক আটক
×

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

বরগুনার পাথরঘাটায় একটি লাইফ ইন্সুরেন্সের কোম্পানির কর্মী পরিচয় দিয়ে ১৪ জন ভিক্ষুকসহ সাড়ে ৩০০ লোকের কাছ থেকে দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া মশিউর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে ভুক্তভোগীরা। গতকাল সোমবার উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুকের দলীয় অফিসে তাঁকে সালিশ বৈঠকের নাম করে ডেকে এনে আটক করা হয়। পরে তাঁকে পাথরঘাটা থানায় সোপর্দ করা হয়। 
মশিউর পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের নিজলাঠিমারা গ্রামের শামসুল হাজির ছেলে। 
প্রতারণার শিকার সেতারা বেগম, তাজেনু, ফাতিমা বেগম জানান, তারা ভিক্ষাবৃত্তি করেন। ২০০৮ সাল থেকে মশিউরের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে প্রত্যেকে আট বছরে তাঁকে ৩৫ হাজার টাকা করে সঞ্চয় জমা দেয়। মশিউর তাদের বলেছিল, প্রত্যেককে সঞ্চয়ের দ্বিগুণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। 

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মশিউর এভাবে সঞ্চয়ের নামে নিজলাঠিমারা ও হাতিমপুর গ্রামের প্রায় সাড়ে ৩০০ লোকের কাছ থেকে দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যায়। অনেক বছর বিদেশ থাকার পর কয়েক বছর আগে দেশে ফেরেন। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্য থাকায় ভুক্তভোগীরা তাঁর কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে পারেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি আবারও বিদেশ চলে যান। সপ্তাহখানেক আগে বিদেশ থেকে বাড়িতে এলে তাঁকে গ্রামবাসী ধরে থানায় সোপর্দ করে। টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে থানা থেকে সালিশ বৈঠকের নাম করে তাঁকে ছাড়িয়ে আনেন বিএনপি নেতারা। সোমবার সালিশ বৈঠকে উল্টাপাল্টা কথা বললে ভুক্তভোগী নারীরা তাঁকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে। 
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছগির আলম জানান, মশিউরের বিরুদ্ধে তাঁর কাছে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মশিউরের কাছ থেকে টাকা আদায় করার জন্য তিনি ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা করছেন। 
পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আব্দুল আলিম, মশিউরের প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অনুরোধে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সালিশে সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা 
নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×