ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মামলার চার্জশিটে নাম নেই প্রধান আসামির

অভিযুক্ত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ ২১ জন

মামলার চার্জশিটে নাম নেই প্রধান আসামির
×

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

গণঅধিকার পরিষদের জামালপুর জেলা সভাপতি ইকবাল হোসেনের করা একটি মামলায় আদালতে চার্জশিট দিয়েছে জামালপুর থানা পুলিশ। এতে নাম নেই মামলার প্রধান আসামির। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বাদী।

মামলায় প্রধান আসামি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোজাফ্ফর হোসেন। চার্জশিটে তাঁর পাশাপাশি তাঁর দুই ছেলে রাইসুল হাসান ও রাকিবুল হাসান এবং জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ব্যবসায়ী মোস্তফা আল-মাহমুদকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে জামালপুর জেলা (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট বাকী বিল্লাহ, সহসভাপতি ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী, সাবেক পৌর মেয়র ছানোয়ার হোসেন ছানু, সাবেক ধর্মমন্ত্রীর ভাই মোর্শেদুজ্জামান খাঁন মাছুম ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাকিব খন্দকারসহ ২১ জনকে।
মামলায় অভিযোগ হয়েছিল, ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাওয়ার সময় সাবেক এমপি মোজাফ্ফর হোসেন, জেলা (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট বাকী বিল্লাহ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ চৌধুরীর নির্দেশে সাবেক পৌর মেয়র ছানোয়ার হোসেন ছানু, সাবেক এমপির দুই ছেলে রাকিবুল হাসান, রাইসুল হাসান এবং সাবেক ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলালের ছোট ভাই মোর্শেদুজ্জামান খাঁন মাছুমসহ অভিযুক্তরা শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গণঅধিকারের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। ঘটনার তিন বছর সাত মাস পর গণঅধিকার পরিষদ জেলা সভাপতি ইকবাল হোসেন তৎকালীন এমপি মোজাফ্ফর হোসেনকে প্রধান করে ৯ জনের নামে ও অজ্ঞাত ২৫০ জনের বিরুদ্ধে জামালপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন।

মামলাটি প্রথমে জামালপুর থানার এসআই রফিকুল ইসলাম পরে এসআই মোহেব্বুল্লাহ এবং এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করেন। সর্বশেষ তদন্ত করেন এসআই শাহিন আলম। জামালপুর চিফ জুডিশিয়াল আদালতের ভারপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর আবেদা খান বলেন, চার্জশিটটি সোমবার জিআর আমলি সদর আদালতে দাখিল হয়েছে। কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়েছে। মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা শাহিন আলম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মতে তিনি চার্জশিট দিয়েছেন। তাই এ ব্যাপারে তাঁর নিজস্ব মতামত নেই, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্যই তাঁর বক্তব্য।
জামালাপুর থানার ওসি এসএম নূর মোহাম্মদ বলেন, মামলা তদন্ত কর্মকর্তার তদন্তের ওপর নির্ভর করে চার্জশিট অগ্রগামী করা হয়। তিনি তাই করেছেন। জামালপুর থানার ওসি নাজমুস সাকিব বলেন, স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য তিনি দেশের বাইরে থাকার সময়ে চার্জশিট প্রস্তুত করে আদালতে পাঠানো হয়। তাই এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, জামালপুর জেলা পুলিশ প্রতিটি মামলা পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট দেয়। এই মামলার ক্ষেত্রেও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। চার্জশিটে অভিযুক্ত মোর্শেদুজ্জামান খান মাছুম বলেন, তিনি ঢাকায় বসবাস করেন। ঘটনার দিনও তিনি ঢাকাতে ছিলেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে মামলাটি যেমন ভিত্তিহীন, চার্জশিটের অভিযোগও তেমনি অসত্য।

মামলার বাদী গণঅধিকার পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি ইকবাল হোসেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, চার্জশিটের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে এখনও জানানো হয়নি। তাই চার্জশিটের কপি হাতে পেয়ে পরে আইনি পদক্ষেপ নেবেন তিনি। জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, ফ্যাসিস্টদের রক্ষা করতে মূল অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে সুকৌশলে পক্ষাশ্রিত হয়ে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। মামলাটির পুনরায় তদন্তের দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×