সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার ৯ পদের আটটিই শূন্য
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
মিরসরাই উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন নেই বললেই চলে। উপজেলার ১৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার ৯১১ জন। বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য ৯ জন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। ফলে তাঁকে একাই শিক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৫ হাজার ৯১১ জন। এ ছাড়া ৪৫টি কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষার্থী প্রায় সাত হাজার। দুটি বেসরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয় ও ছয়টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী রয়েছে ৫০০। সব মিলিয়ে ৩৩ হাজারে বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে প্রাথমিকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় এক হাজার ৩৫০ শিক্ষক রয়েছেন।
উপজেলা পর্যায়ে একজন শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) এবং ৯ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার (এটিও) পদ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং ৯ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র একজন কর্মরত রয়েছেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সাতটি পদ শূন্য ছিল। মাস দুয়েক আগে আরেকজন বদলি হয়ে চলে যান। এ ছাড়া শিক্ষা অফিসের পাঁচটি অফিস সহকারী
পদে মধ্যে তিনটি ও একটি পিয়ন পদ শূন্য পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি তিন মাস পর একটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করার কথা একজন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার। কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য বিদ্যালয়গুলোকে ৯টি ক্লাস্টারের ভাগ করা হয়। একেকটি ক্লাস্টারে একেকজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনের নিয়ম রয়েছে।
সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়গুলো বছরে একবার পর্যবেক্ষণ করা হলেও উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায় একেবারেই পর্যবেক্ষণ করা হয় না। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ইছাখালী, মঘাদিয়া, সাহেরখালী, ওসমানপুর, করেরহাটের পাহাড়ি এলাকা, খৈয়াছরা, মায়ানী, হাইতকান্দি, হিংগুলীর কিছু অংশসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ হয় না।
মসজিদিয়া ভূঁইয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন জানান, তাঁর বিদ্যালয়টি চার-পাঁচ মাস আগে একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পরিদর্শন করেছেন। তবে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় উপজেলায় এমন অনেক বিদ্যালয় রয়েছে যেখানে এক বছরেও পরিদর্শন হয়নি। প্রতিটি বিদ্যালয়ে পরিদর্শনসংক্রান্ত একটি ফরম রয়েছে। সেটি পূরণের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সংকটের কারণে অনেক প্রশাসনিক কাজে শিক্ষকদের কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয় বলে তিনি জানান।
মিরসরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কর্মরত একমাত্র সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মুরাদ জানান, তিনি এখন ৯টি ক্লাস্টারের বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। ক্রমানুসারে বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫টি বিদ্যালয় পরিদর্শন সম্ভব হয়। বর্তমানে এটি অনেকটা অসম্ভব পড়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি একটি ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বও তাঁকে সামলাতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোজিনা রহমান বলেন, উপজেলার বিদ্যালয়ের সংখ্যার তুলনায় কর্মকর্তার পদ অনেকগুলো শূন্য। ফলে কাজ করতে বড় রকমের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন নিয়োগ ও পদোন্নতি না হওয়ার কারণে সংকট দেখা দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
- বিষয় :
- শিক্ষা