ঢাকা বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কারখানা লে-অফ তিন মাস এর মধ্যে ছাঁটাই ৬২৭ শ্রমিক

কারখানা লে-অফ তিন মাস এর মধ্যে ছাঁটাই ৬২৭ শ্রমিক
×

গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের কারখানার সামনে টাঙানো ছাঁটাইয়ের নোটিশে নাম খুঁজছেন কয়েকজন শ্রমিক। গতকাল মঙ্গলবার তোলা সমকাল

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের কারখানার প্রধান ফটকের সামনে গত সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই ভিড় করেন অনেকে। কেউ খুঁজেন নিজের নাম, কেউ সহকর্মীর। কারও চোখে উৎকণ্ঠা, কারও মুখে ক্ষোভ। ফটকে টানানো একটি তালিকা মুহূর্তেই বদলে দিয়েছে বহু শ্রমিকের জীবনের হিসাব। তালিকায় রয়েছে ৬২৭ শ্রমিক-কর্মচারীর নাম। কেয়া গ্রুপের তিন মাস ধরে লে–অফে থাকা চারটি প্রতিষ্ঠানের এসব কর্মীকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার সকালেও কারখানার সামনে জড়ো হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে ছিল চাপা উত্তেজনা। কর্মী ছাঁটাই করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলোকেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড। 

কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং অতিরিক্ত জনবলের কারণে হওয়া উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন সেকশন, বিভাগ ও ডিভিশনের কিছু পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের সই করা নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছাঁটাই করা হবে। ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করা হবে। ভবিষ্যতে কারখানায় নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলে শ্রম আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

স্বস্তিতে নেই চাকরি বহাল থাকা ব্যক্তিরাও। কর্তৃপক্ষের নোটিশ অনুযায়ী, বর্তমানে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীরা লে-অফের আওতায় থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী লে-অফের সুবিধা পাবেন। কেয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সব পাওনা পরিশোধ করা হবে। তিনি জানান, হেড অফিসের ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস, কমার্শিয়াল, মার্চেন্ডাইজিং, কোর প্ল্যানিং, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং, ইন্টারনাল অডিট, কমপ্লায়েন্স, পে-রোল, প্রশাসনসহ বিভিন্ন শাখার কার্যক্রম আগের মতো চলবে। একইভাবে মেডিকেল, নার্সারি, ওয়ার্কশপ, সিভিল, কার্পেন্টার, প্লাম্বার, পেইন্টার, ফটোগ্রাফার, পিয়ন, ইছরকান্দি প্রজেক্ট, নিরাপত্তা, অ্যান্টি-ফায়ার, ইটিপি এবং স্পিনিং ডিভিশনের মেকানিক্যাল সেকশনের নির্দিষ্ট কার্যক্রমও চালু থাকবে।
নোটিশ অনুযায়ী, ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাস বিল পরিশোধ না করায় গত ৬ জুন থেকে কারখানাগুলো লে-অফে রয়েছে। এরপর কয়েক দফায় লে-অফের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আগে ৬ জুন থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শ্রম আইন অনুযায়ী কারখানাগুলো লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছিল। এই সময়সীমা বাড়িয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে। 

ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক আকবর আলী বলেন, এখন আমার সংসার কীভাবে চলবে? ইচ্ছা করলেই কি এখন আবার কোথাও চাকরি নিতে পারব? আলেয়া খাতুন নামে এক শ্রমিক বলেন, এই সিদ্ধান্ত আমাদের পথে বসিয়ে দিল। জানি না কীভাবে চলব আমরা। 
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কারখানার প্রধান ফটকে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি গাজীপুর মহানগর পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×