ঢাকা বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাথায় খসে পড়ে পলেস্তারা বৃষ্টিতে ভিজে সরকারি নথি

মাথায় খসে পড়ে পলেস্তারা বৃষ্টিতে ভিজে সরকারি নথি
×

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রধান ডাকঘর ভবনটি স্বাধীনতার পর আর সংস্কার হয়নি। মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সেবা দিচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমকাল

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রধান ডাকঘর ভবনটি এখন এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন খসে পড়ছে পলেস্তারা। সামান্য বৃষ্টিতে ছাদ চুয়ে পানি পড়ে নষ্ট হচ্ছে বহু বছরের 
পুরোনো সরকারি ফাইল ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। প্রতিনিয়ত বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রচণ্ড আতঙ্ক ও ভয় নিয়ে ডাকঘরে যাতায়াত করছেন হাজার হাজার সেবাগ্রহীতা।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও বামনডাঙ্গা উপজেলা পর্যায়ভুক্ত প্রধান দুটি ডাকঘরের অধীনে মোট ২৮টি শাখা ডাকঘর পরিচালিত হয়। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রধান ডাকঘরের অধীনে রয়েছে ১২টি শাখা ডাকঘর। স্বাধীনতার আগে নির্মিত ডাকঘরটি আর সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে পোস্টমাস্টারসহ  কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।

আধুনিক ও ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাকসেবা ডিজিটাল করা হলেও এই ভবনের জরাজীর্ণ দশায় সব প্রযুক্তি ম্লান হতে বসেছে। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র ও স্পর্শকাতর নথিপত্র প্রেরণ, সরকারি দপ্তরের অফিসিয়াল চিঠিপত্র আদান-প্রদান এবং রাজস্ব স্ট্যাম্প সংগ্রহের একমাত্র বিশ্বস্ত মাধ্যম হিসেবে প্রতিদিন এই জরাজীর্ণ ভবনটিতে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে।
দহবন্দ ইউনিয়ন থেকে সেবা নিতে আসা সাইদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘উপজেলার প্রধান ডাকঘরটির দশা অত্যন্ত করুণ। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে নির্মিত এই ভবনের ভেতর ঢুকে বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে ভয় করে। কখন ছাদ খসে মাথার ওপর পড়ে সেই চিন্তায় তটস্থ থাকতে হয়।’

উপজেলার বেলকা শাখা ডাকঘরের রানার (পিয়ন) মোস্তফা মিয়া জানান, ‘চিঠিপত্র ও পার্সেল আদান-প্রদানের জন্য উপজেলার ১২টি শাখা ডাকঘরের রানারদের প্রতিদিন এই প্রধান কার্যালয়ে আসতে হয়। ভবনের ভেতরে বেশিক্ষণ অবস্থান করা এখন খুবই বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার নুরুল হুদা আক্ষেপ করে বলেন, ‘এককথায় এ ভবনটি এখন পুরোপুরি ব্যবহারের অযোগ্য। বৃষ্টি হলে ছাদ চুয়ে পানি পড়া শুরু হয়, ফলে মূল্যবান নথিপত্র শুকনা রাখা ও সংরক্ষণ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। ভবনটি নতুনভাবে নির্মাণ বা জরুরি সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বহুবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। আজও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
সার্বিক দুরবস্থা সম্পর্কে জানতে জেলা পোস্টমাস্টার রমজান আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দুরবস্থার সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান, সুন্দরগঞ্জ ডাকঘর ভবনের বেহাল ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকির বিষয়টি জেলা দপ্তরে জানা রয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ অথবা জরুরি বড় ধরনের সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×