সিকৃবির প্রশাসনিক ভবনে তালা আন্দোলনকারীদের
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অপসারণ দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সমকাল
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস। আন্দোলনের চতুর্থ দিনে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’ সমর্থিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে মাঠে নেমেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও।
এর আগে উপাচার্যের অনিয়মের প্রতিবাদে একযোগে পদত্যাগ করেন ১১টি প্রশাসনিক পদে দায়িত্বরত ৫ শিক্ষকসহ মোট ১১ জন কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে উপাচার্যকে ‘দুর্নীতিবাজ’ ও ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শের শত্রু’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। এতে স্থবির হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম। কর্মসূচিতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানাউল হোসেন সনি, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, মো. গোলাম রব্বানী, রাকিব হোসেন, জাহিদ হাসান ফাহাদ প্রমুখ।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বিতরণ করা ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির আংশিক খতিয়ান’ শীর্ষক লিফলেটে উপাচার্যের বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে ১৮টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ। এতে বলা হয়, প্রাথমিক বাছাইয়ে বাদ পড়ার যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং সিকৃবির নিজস্ব মেধাবী গ্র্যাজুয়েটদের বঞ্চিত করে বাইরের অযোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত ১২ ফেব্রুয়ারি তড়িঘড়ি করে ২২ জন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে ১১ জনের বাড়ি উপাচার্যের নিজ এলাকায় এবং তাদের অনেকেই পরীক্ষা ছাড়াই চাকরি পেয়েছেন।
ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ, সেন্ট্রাল স্টোরের জন্য নিম্নমানের আসবাব ও স্মার্টবোর্ড ক্রয়, সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে কোটি টাকার টেন্ডার দুর্নীতি এবং অডিটোরিয়ামের ফাটল মেরামতের নামে সরকারি তহবিল তছরুপেরও অভিযোগ তোলা হয়।
লিফলেটে আরও অভিযোগ করা হয়, সাদা দল ভেঙে ‘সোনালী দল’ নামে কিংস পার্টি গঠন, জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী পালনে বাধা দান, তুচ্ছ অজুহাতে সিনিয়র অধ্যাপকদের বরখাস্ত ও হয়রানি, ছাত্রলীগের মাধ্যমে প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে অপসারণ এবং প্রশাসনের ৫০টির বেশি পদের মধ্যে ৩০টিতে সাবেক ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। এতে বলা হয়, চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও উপাচার্য বেআইনিভাবে পদে বহাল রয়েছেন এবং এর আগে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে ভ্যাকসিন ও গবেষণা তহবিল তছরুপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি।
তবে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের তোলা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, পদত্যাগকারীদের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় তারা সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সরকার তাঁকে নিয়োগ দিয়েছে, সরকার বললে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য হচ্ছে, তাঁকে অন্যায়ভাবে পদচ্যুত করা।
- বিষয় :
- সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়