সভায় বক্তরা
কুষ্ঠ প্রতিরোধে দরকার সচেতনতা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:০৫
কুষ্ঠের সঙ্গে ২৬ বছর ধরে লড়াই করছেন খুলনার রেসমা বেগম। একসময় প্রতিবেশীরা তাকে বাড়িতে ঢুকতে দিতেন না, এমনকি পুকুরে গোসল করতেও বাধা দিতেন। একঘরে ও একাকিত্বের জীবন কাটাতে হয়েছে তাকে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে হোমিওপ্যাথি ও কবিরাজি- বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু ২০১৭ সালের আগে কেউ তাকে কুষ্ঠের চিকিৎসা দেননি। পরে দ্য লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় খ্রিষ্টিয়ান সার্ভিস সোসাইটির (সিএসএস) হেলথ সেক্টর তার চিকিৎসা শুরু করে। এখন অনেকটাই সুস্থ রেসমা।
বুধবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে কুষ্ঠবিষয়ক বিভাগীয় অ্যাডভোকেসি সভায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন রেসমা। জাতীয় কুষ্ঠ কর্মসূচি ও দ্য লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (এলটিএমআই-বি) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
রেসমা বলেন, ‘কুষ্ঠ ছোঁয়াচে নয়- এটা কেউ বিশ্বাস করে না। কুষ্ঠ চিকিৎসা পেলে সেরে যায়, এটাও কেউ বিশ্বাস করে না।’ তার মতো আর কাউকে যেন সামাজিকভাবে হেয় হতে না হয়, সেই আকুতিও জানান তিনি।
সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, কুষ্ঠ প্রতিরোধ ও নির্মূলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সঠিক সময়ে শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া গেলে কুষ্ঠ নিরাময় সম্ভব- এই বার্তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে কুষ্ঠে আক্রান্ত ব্যক্তি, তার পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে কুসংস্কার দূর করতে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
বক্তারা বলেন, কুষ্ঠ নির্মূলের লক্ষ্যে স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সহযোগিতা আরও বাড়াতে হবে। রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং সামাজিক সচেতনতা- সব ক্ষেত্রেই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন।
কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনায় দ্য লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনালের হেড অব অপারেশনস জিপথা বৈরাগী বলেন, খুলনা বিভাগের মাগুরা ও নড়াইলে কুষ্ঠ রোগী শূন্য দেখানো হচ্ছে। তবে সেখানে রোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ না থাকায় প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাচ্ছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, খুলনা ও কুষ্টিয়া জেলায় কুষ্ঠবিষয়ক কার্যক্রম সক্রিয় থাকায় এসব জেলায় রোগীও বেশি শনাক্ত হচ্ছে। সরকারিভাবে কুষ্ঠ রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি উন্নয়ন সংস্থাগুলোও কাজ করছে। আক্রান্ত ব্যক্তিরা যাতে কুসংস্কারের শিকার না হন এবং রোগ শনাক্ত হওয়ার পরপরই সঠিক চিকিৎসা পান, সে জন্য আরও উদ্যোগ প্রয়োজন।
জাতীয় কুষ্ঠ কর্মসূচির উপপরিচালক (এমবিডিসি) ডা. মাহবুব আরেফিন রেজানুর বলেন, সারা দেশে কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত করতে সরকারি উদ্যোগে জরিপ করা জরুরি। এ জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে বাজেট চাওয়া হয়েছে। বাজেট পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার কুষ্ঠ নিয়ে কাজ করছে। তবে কর্মী ও বাজেটের স্বল্পতা রয়েছে। উন্নয়ন সহযোগীরা সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমবিডিসি) ডা. মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, কুষ্ঠে আক্রান্ত হওয়ার পর রোগটি শনাক্ত হতে দুই থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কুষ্ঠ নিরাময় ও নির্মূলে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন সহযোগীরা চিকিৎসা সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যৌথভাবে কুষ্ঠের চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। তবে ভবিষ্যতে কুষ্ঠ চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। সে জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আবদুছ সালাম বলেন, কুষ্ঠ একটি প্রাচীন রোগ হলেও এটি নিরাময়যোগ্য। সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে কুষ্ঠ নিরাময় সম্ভব। ইতিমধ্যে এ খাতে বাজেট বাড়ানো হয়েছে। আরও বাজেট বাড়ানোর বিষয়টি মন্ত্রী ও সচিবের নজরে আনা হবে। কারণ কুষ্ঠের চিকিৎসা সহজলভ্য করা জরুরি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
- বিষয় :
- খুলনা
- স্বাস্থ্য
- আলোচনা সভা
- কুষ্ঠ রোগী