ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুরে দুই মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা, গ্রেপ্তার ৩

গাজীপুরে দুই মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা, গ্রেপ্তার ৩
×

ফাইল ছবি

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৪২

গাজীপুরের গাছা এলাকার একটি মাদ্রাসায় দুই ছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগে শনিবার থানায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালকসহ তিন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- গাছার পশ্চিম ঝাঝড়ের সাক্রাউরী এলাকার আল-মাদরাসাতু দারুত তাকওয়ার পরিচালক মাওলানা শোয়াইব হোসেন (২৬), শিক্ষক হাবিবুর রহমান (২৬) ও শাহিন আলম (১৯)।

নির্যাতনের শিকার দুই শিক্ষার্থী হলো কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সিংপুর গ্রামের নাজমুল ইসলামের ছেলে বায়েজীদ হোসেন (১৩) ও  শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে বোরহান আলী (১৩)। দুজনই ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরে বায়েজীদ। ছেলেকে দেখেই বাবা নাজমুলের চোখে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। বায়েজীদ স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে কিংবা বসতে পারছিল না। কী হয়েছে জানতে চাইলে বায়েজীদ জানায়, তার নিতম্বে ফোঁড়া হয়েছে। পরদিন ফোঁড়ার জায়গায় ওষুধ দিতে গেলে সে বাধা দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা চাপাচাপি করলে বেরিয়ে আসে অন্য ঘটনা। দেখা যায়, তার শরীরের অন্য জায়গায়ও পোড়া জখমের দাগ। এ সময় বায়েজীদ জানায়, বুধবার বিকেলে মাদরাসার মাঠে খেলাধুলার সময় এক শিক্ষার্থীর পায়জামা অসাবধানতাবশত খুলে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদরাসার পরিচালক মাওলানা শোয়াইব তাকে উলঙ্গ করে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়েছেন। একপর্যায়ে লোহার গরম খুন্তি দিয়ে তার নিতম্বে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। বোরহানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ।

বোরহানের বাবা লাল মিয়া বলেন, একই ঘটনায় তার ছেলেকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। তার মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে পোশাক খুলে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে মাওলানা শোয়াইব গরম খুন্তি দিয়ে বোরহানের তলপেটে ছ্যাঁকা দেন। পরে শিক্ষক হাবিবুর রহমান ও শাহিনও ওই গরম খুন্তি দিয়ে তার উরু, নিতম্বসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। এ ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার পরও বোরহান মাদরাসাতেই ছিল। শুক্রবার রাতে ছেলেকে দেখতে মাদরাসায় যান তিনি (লাল মিয়া)। তখন তাকে জানানো হয়, বোরহানকে অন্য শাখায় পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর মাদরাসার অন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, তার ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। 

দুই শিক্ষার্থীর বাবা পৃথকভাবে গাছা থানায় মামলা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। 

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাব্বানী সমকালকে বলেন, বায়েজীদের পরিবারের করা মামলায় মাদরাসার পরিচালক মাওলানা শোয়াইব হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বোরহান আলীর বাবা লাল মিয়ার করা মামলায় হাবিবুর রহমান ও শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×