চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা–হত্যার হুমকি
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
পটুয়াখালীর বাউফলে দাবি করা তিন লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর দোকানে তালা মারা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সৈয়দ মো. সোহাগ নামে এক যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নাইম হোসেন গত বৃহস্পতিবার বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী নাইম উপজেলার পূর্ব কালাইয়া গ্রামের মো. বাবলু চৌকিদারের ছেলে। তিনি শৌলা তারের পোল বাজারে কীটনাশকের দোকান ও ট্রলি গাড়ির ব্যবসা করেন।
অভিযুক্ত সৈয়দ মো. সোহাগ কালাইয়া লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি কালাইয়া ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় কর্মী। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে তিনি যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজাসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে চালান করেছিল পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কীটনাশক ও ট্রলি ব্যবসার পাশাপাশি নাইম মৌসুমে তরমুজ চাষ ও পরিবহন করেন। গত মৌসুমের পর থেকে তাঁর কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছেন সোহাগ। দাবি করা চাঁদা না দেওয়ায় ২০ দিন আগে দলবল নিয়ে নাইমের দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তালা ভেঙে দোকান সচল করলে সোহাগ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে কয়েক দফায় নাইম ও তাঁর বাবার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর আবারও চাঁদা দাবি করে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ী নাইম বলেন, ‘ট্রলি গাড়ি দিয়ে হালচাষ ও তরমুজের মৌসুমে পরিবহন করার সময় থেকে প্রতি পিস তরমুজে এক টাকা করে চাঁদা দাবি করে আসছে সোহাগ। টাকা না দেওয়ায় প্রকাশ্যে
আমার দোকানে তালা দেয় এবং পরে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।’
ব্যবসায়ীর বাবা মো. বাবুল চৌকিদার জানান, ‘কয়েক দিন আগে বাজারের এক তেল ব্যবসায়ীর দোকানে ডেকে নিয়ে সোহাগ আমার কাছে চাঁদা দাবি করে। আমার ছেলে ব্যবসা ও ট্রলি চালায়
বলে তাঁকে টাকা দিতে হবে জানায়। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে চলে এলে পরে ফোনে হুমকি-ধমকি দেয়।’
চাঁদা দাবি ও তালা মারার অভিযোগ অস্বীকার করে সৈয়দ মো. সোহাগ বলেন, ‘গত বছর আমার এক ভায়রার ৩৫ একর জমির তরমুজ নাইমের গাড়ি দিয়ে পরিবহন করা হয়েছিল। কথা ছিল প্রতি পিস তরমুজে আমাকে এক টাকা করে দেওয়া হবে, সেই টাকা সে দেয়নি। তা নিয়ে ঝামেলা চলছে। দোকানে তালা মারা বা হুমকির বিষয়টি সত্য নয়।’
বাউফল থানার উপপরিদর্শক মফিজুল ইসলাম জানান, ব্যস্ততার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সরেজমিন তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে চাঁদাবাজির সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- চাঁদা