ঢাকা রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশা চালকসহ নিহত ২

ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশা চালকসহ নিহত ২
×

প্রবাল এক্সপ্রেস আটকে রাখে জনতা। ছবি: সমকাল

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:০৯

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশাচালক ও এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। রোববার দুপুর দেড়টার দিকে সাতকানিয়ার বিওসি মোড়ের কাটগড়-আলমগীর সড়কের রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ ওই ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগসহ নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। একপর্যায়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে দেন।

নিহত দুজন হলেন সাতকানিয়ার মাইঙ্গ্যাপাড়া গ্রামের মৃত হাজি মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে প্রবাসী আবু তাহের (৪৬) এবং উত্তর ধর্মপুর মুহুরীপাড়ার মৃত সাহেব মিয়া সওদাগরের ছেলে আবদুল শুক্কুর (৪৪)। 

স্থানীয়রা জানান, দুপুর দেড়টার দিকে অটোরিকশাটি রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় কক্সবাজারগামী পর্যটন এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় পড়ে। ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশাটি কিছুদূর গিয়ে সড়কের পাশে পড়ে যায়। এ সময় চালক ও যাত্রী ট্রেনের নিচে পড়ে যান।

দুর্ঘটনায় আবু তাহের ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার শরীরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত আবদুল শুক্কুরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে দোহাজারী হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই রেলক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান নেই। এ কারণে প্রায়ই ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন পারাপার করতে হয়। স্থানীয়রা ট্রেনচালকদের হর্ন বাজানোর অনুরোধ করলেও তাতে সাড়া দেওয়া হয় না। এর আগেও এই ক্রসিংয়ে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আবু তাহের তিন দিন আগে সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছিলেন। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে তার আবার প্রবাসে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।

দুর্ঘটনার পর দুপুর ২টার দিকে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকে দেন। রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগসহ নিরাপত্তার দাবিতে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। রেললাইনে গাছের টুকরো রেখে এবং পাশের ঝোপঝাড় কেটে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয়রা ব্যারিকেড তুলে নেন। পরে প্রবাল এক্সপ্রেস চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ট্রেনটি আটকে থাকায় শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। এ সময় অনেক যাত্রী ট্রেন থেকে নেমে সড়কপথে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।

সাতকানিয়া থানার ওসি মো. আবদুল আলিম বলেন, দুপুরে কক্সবাজারগামী ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশার চালক ও এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। স্থানীয়রা ঝুঁকিপূর্ণ এই ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগসহ নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর তারা ব্যারিকেড তুলে নেন।
 

আরও পড়ুন

×