ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জমির বিরোধে জোড়া খুন

মামলা তুলে নিতে বাদীর পরিবারকে হুমকি

মামলা তুলে নিতে বাদীর পরিবারকে হুমকি
×
×

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা লক্ষ্মীপুর গ্রামে মাত্র চার শতক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে খুন হয়েছেন দুই চাচাতো ভাই সুমন রানা ও ইয়াসিন আলী। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে এখন দুই পরিবারের ১০ জন সদস্য খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে এতিম সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
গত ১৮ মে সকালে নিজ বাড়ির পাশে বিরোধপূর্ণ জমিতে বাবা, মা, স্ত্রী ও সন্তানদের চোখের সামনে সুমন ও ইয়াসিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। ঘটনার চার মাস পার হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। আসামিরা জামিনে বের হয়ে হুমকি দেওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী স্বজনেরা।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, চার শতক জমি নিয়ে সুমন রানার সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই রেজাউল করিম ও আওলাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এ অবস্থায় ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রায় ২২ জন রাজমিস্ত্রি সঙ্গে নিয়ে জোর করে ঘর নির্মাণ শুরু করেন রেজাউল ও তাঁর লোকজন। এ সময় ইয়াছিন আলী আদালতের মামলা নিষ্পত্তি ও জমি মেপে 
ঘর তোলার অনুরোধ জানান। এ কথা বলতে ক্ষিপ্ত হয়ে রেজাউলের দুই ছেলে আহাদ ও রাব্বি এবং আওলাদরা ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে প্রথমে ইয়াছিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। তাঁকে বাঁচাতে সুমন ঘর থেকে বেরিয়ে এলে তাঁকেও কুপিয়ে খুন করা হয়। ইয়াছিনের মা বাধা দিলে তাঁকেও পিটিয়ে জখম করা হয় এবং কলেজপড়ুয়া ছোট ভাই সাকিবকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে দুই পরিবারে নেমে এসেছে ঘন অন্ধকার। ইয়াছিনের আয়ে চলত সাত সদস্যের পরিবার আর সুমনের ইজিবাইকের আয়ে চলত পাঁচজনের সংসার। বর্তমানে দুই পরিবারই পুরোপুরি দিশেহারা।

চোখের সামনে সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা ইয়াছিনের মা আমেতুন নেছা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ছেলে শুধু বলেছিল মামলা নিষ্পত্তি করে জমি মেপে ঘর তুলতে। এই অপরাধে আমার সামনে তাকে কুপিয়ে মারল। সেই থেকে চোখে ঘুম নেই। নাতিদের পড়ালেখার খরচ দূরে থাক, ঘরে চাল পর্যন্ত নেই। বাধ্য হয়ে ছোট ছেলেটা পড়াশোনা ছেড়ে কাজের সন্ধানে বের হয়েছে।’
একই দৃশ্য সুমনের বাড়িতেও। সুমনের সাত বছরের মেয়ে আনিকা ও ছোট মেয়ে লামিয়া প্রতিদিন বাবার কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। সুমনের স্ত্রী রেমি খাতুন বলেন, ‘রাতে শিশুরা আতঙ্কে বাবা বাবা বলে চিৎকার করে জেগে ওঠে। একদিকে আয়ের কোনো পথ নেই, শ্বশুরের ওপর নির্ভর করে সংসার চলছে; অন্যদিকে আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসি চাই।’
এ ঘটনায় সুমনের স্ত্রী বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আনসার আলী জানান, আসামিদের কয়েকজন আদালত থেকে জামিন নিয়েছিলেন। তবে জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদেরসহ এজাহারনামীয় সব আসামিকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×