ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

বালুতে মেশানো হচ্ছে রাবিশ ও মাটি, হাতেই ভাঙছে খোয়া

বালুতে মেশানো হচ্ছে রাবিশ ও মাটি, হাতেই ভাঙছে খোয়া
×
×

জয়পুরহাটের কালাইয়ে সড়ক নির্মাণকাজে ব্যবহার করা নিম্নমানের ইট। শুক্রবার তোলা সমকাল

 জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

জয়পুরহাটের কালাইয়ে পাকা সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজে নিম্নমানের খোয়ার পাশাপাশি রাবিশ ও মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেও কাজটি থামাতে পারছেন না। উল্টো কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন ঠিকাদার।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, উপজেলা এলজিইডি অফিসের প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রকাশ্য এসব নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। বাধা দিয়েও কাজ বন্ধ করা যাচ্ছে না। অভিযোগ জানানোর পর কাজের গতি আগের চেয়ে আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হারুঞ্জা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তর ভাবকি গুচ্ছগ্রাম পর্যন্ত এক হাজার ২৪৫ মিটার সড়ক পিচ ঢালাইয়ের উপযোগী করতে কাজ চলছে। এক কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী প্রাক্কলিত ব্যয়ের সাইনবোর্ড ঝুলানোর কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। কাজটি পেয়েছে জয়পুরহাটের ‘রাবা কনস্ট্রাকশন’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে বর্তমানে সাব-ঠিকাদার হিসেবে জাহেদ হাসান নামে এক ব্যক্তি কাজটি করছেন। যিনি রাবা কনস্ট্রাকশনের কাছ থেকে কাজটি কিনে নিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক খনন ও ভরাটের পর ইটের বেড প্রস্তুত করতে নিম্নমানের খোয়ার পাশাপাশি নম্বরবিহীন (নির্মাণকাজে ব্যবহার অনুপযোগী) ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ইট হাতে চাপ দিলে গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় ইটের গুঁড়ো বা রাবিশ এবং বালুর সঙ্গে খনন করা মাটি মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সড়কটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় প্রকৌশল অফিসের তদারককারী কর্মকর্তা বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছেন। তিনি বেশির ভাগ সময় অনুপস্থিত থাকেন, যার সুযোগে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামতো কাজ করছেন। প্রকৌশলী নিজে এই অনিয়মে সহযোগিতা করছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।

উত্তর ভাবকি গ্রামের বাসিন্দা দিলবর হোসেন বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ জানানো যেন আমাদের অপরাধ হয়েছে। তিনি ঠিকাদারের পক্ষ নিয়ে আমাদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। নিম্নমানের ইটের সঙ্গে রাবিশ ও বালুর বদলে মাটি দেওয়া হচ্ছে। অথচ প্রকৌশলী উপস্থিত থেকেও তা বন্ধ করছেন না।
সিরাজুল ইসলাম নামে অন্য এক বাসিন্দা জানান, ‘ঠিকাদার নিজে বলেছেন এই কাজে ৩ নম্বর ইট ব্যবহারের অনুমতি আছে। কিন্তু বাস্তবে ৩ নম্বরের চেয়েও খারাপ গড়াই ইট দেওয়া হচ্ছে। এমন সড়ক কয়েকদিনও টিকবে না।

ভাবকি গ্রামের বাসিন্দা কাজেম উদ্দিন বলেন, ‘চোখের সামনে এমন অনিয়ম সহ্য হয় না। কয়েকবার নিম্নমানের ইটবোঝাই ট্রাক ফেরত দেওয়া হলেও রাতের আঁধারে সেগুলো এনে আবার কাজ চালানো হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে কাজ বন্ধের হুমকি দেয়। তদারকি কর্মকর্তা থাকার পরও কীভাবে এসব ব্যবহার হয়?’ 
এ বিষয়ে রাবা কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, তিনি কাজ পাওয়ার পর তা জাহেদ হাসানের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। তিনি সাব-ঠিকাদার হিসেবে জাহেদ হাসান কাজ করছেন, তাই কাজের ভালো-মন্দের পুরো দায় তাঁর।
সাব-ঠিকাদার জাহেদ হাসান জানান, ‘পিরোজপুর থেকে এসে এই কাজ করতে গিয়ে শুরুতে ঠকেছি। লাভের আশায় কাজ নিয়ে বিপদে পড়েছি। যেসব জায়গায় বেশি খারাপ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে খোয়া তুলে নেওয়া হবে।’
দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী আবু জাফর বলেন, ‘স্থানীয়দের অভিযোগ সত্যি। আমি কাজ ভালো করার চেষ্টা করেছি।’
উপজেলা প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ জানান, অভিযোগ পেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণ করে উন্নতমানের সামগ্রী ব্যবহারের জন্য ঠিকাদারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×