জংলা-শেওলায় ঢাকা বাইপাস সংস্কারে নজর নেই সওজের
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জসংলগ্ন রুস্তমপুর টোলপ্লাজার পশ্চিম পাশের বেহাল বাইপাস সড়ক। বৃহস্পতিবার তোলা সমকাল
এম এ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক লাগোয়া দুটি গুরত্বপূর্ণ বাইপাস সড়ক সংস্কারের অভাবে এখন চলাচলের অযোগ্য। অথচ মহাসড়কের ওপর চাপ কমাতে করা হয়েছিল সড়ক দুটি, যা কোনো কাজেই আসছে না। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে রুস্তমপুর টোলপ্লাজা সংলগ্ন বাইপাস সড়ক দুটি নিয়ে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চলাচলকারী পরিবহনের চালক ও নিয়মিত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাঁচ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ বাইপাস সড়ক দুটি বন্ধ। সড়ক ও জনপথ বিভাগ মেরামত করছে না। ব্যবহার না হওয়ায় সড়ক দুটি শেওলা, কাদা আর জংলায় ঢেকে গেছে। অথচ এই দুটি বাইপাস ধরে মহাসড়ক থেকে ছোট পরিবহনগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে দুই ও তিন চাকার যাত্রীবাহী হালকা যান এই সড়কে চলাচল করত। সড়ক দুটি সচল থাকলে যানজটের ভোগান্তি কমে যায়। মূলত এ লক্ষ্য নিয়েই নির্মাণ করা হয়েছিল এটি।
সরেজমিন সড়ক দুটির অবস্থা পর্যবেক্ষণের সময় সেখানকার বাসিন্দারা জানান, সময়মতো সংস্কারকাজ না করায় সড়কের অবস্থা নাজুক। সওজের উদাসীনতা না থাকলে অল্পতেই সংস্কারকাজ সম্পন্ন হতো। আর সড়কে যানবাহনের নিয়মিত চলাচল থাকলে এতটা বেহাল হতো না। এ অবস্থায় প্রায় পাঁচ বছর কেটে গেছে। ফলে ছোট পরিবহন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, অটোরিকশা, টমটম, ভ্যান ও ঠেলাগাড়ি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মহাসড়কের টোলপ্লাজা দিয়ে।
ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর গ্রামে মহাসড়কের টোল আদায়ের জন্য রয়েছে টোল বক্স। এই টোল বক্সের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দুটি বাইপাস সড়ক করা হয়েছে মহাসড়কে চলাচলকারী এনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান, টমটমসহ নানা রকমের ছোট যান চলাচলের জন্য। প্রায় পাঁচ বছর আগে এই সড়ক দুটির বেশ কিছু স্থানে ভাঙন ও ফাটল দেখা দেয়। সংস্কারের জন্য বন্ধ রাখা হয় সড়ক। এর পর এখন পর্যন্ত আর সড়ক দুটিতে কোনো কাজও হয়নি। বরং অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় ব্যবহার একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। তেমনি তাদের টোল দিতে হচ্ছে নিয়মিত। কিন্তু ওই দুটি সড়ক সংস্কার করে আবার চালু করা হলে তাদের টোল দিতে হয় না এবং ঝুঁকিমুক্ত হয়ে চলাচল করতে পারেন।
টোলপ্লাজার পাশে ব্যবসায়ী মাসুদ মৃধা বলেন, আমাদের টোলপ্লাজার পাশের ব্যবসায়ী হিসেবে সব সময় দেখি ছোট ছোট পরিবহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। এই সড়ক দুটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে বন্ধ থাকলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন অজ্ঞাত কারণে মেরামত করছেন না। তাদের কাছে দাবি করব, দ্রুত টোলপ্লাজার পূর্ব ও পশ্চিম পাশের দুটি সড়ক মেরামত করে দেওয়ার জন্য।
অটোরিকশাচালক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কের ওপর দিয়ে টোলপ্লাজা পাড়ি দিতে হয়। একদিকে ঝুঁকি, অন্যদিকে টোলের জন্য বাড়তি খরচ। বিগত পাঁচ বছরে এই দুটি সড়ক মেরামত না করায় অনেক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এই মহাসড়কে খাদকের অভাব নেই। শুধু সঠিক কাজের লোকের অভাব।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মীর সাব্বির আহমদ জানান, ওই দুটি বাইপাস সড়ক সওজের অধীনে। তারা এই দুটি সড়ক কেন সংস্কার করছে না, তা তাদের বোধগম্য নয়। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি বাইপাস। এসব কাজে তাদের হাত দেওয়ার সুযোগ নেই।
হবিগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, এগুলো মহাসড়কের ছয় লেনে চলে গেছে, তাই সংস্কার হচ্ছে না। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, পাঁচ বছর ধরে বন্ধ কেন? তিনি তখন বলেন, ফাইলপত্র দেখে বলতে হবে কেন সংস্কার হচ্ছে না। দায়িত্ব অবহেলা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- সড়ক