ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন

সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা জামায়াতের

সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা জামায়াতের
×
×

প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম। ছবি: সমকাল

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:১০

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংসদে সমাধান না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এ ছাড়া সাংবিধানিক সংস্কার এবং উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের ‘বঞ্চনা’ দূর করতে সংসদের পাশাপাশি রাজপথে সোচ্চার হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে দলটি।

শনিবার দুপুরে রংপুর নগরের শাপলা চত্বরে জামায়াতে ইসলামীর মহানগর কার্যালয়ে রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির, রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম।

আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ, বিশেষ করে রংপুর বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চনার শিকার। ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে এ অঞ্চলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ও পৃথক উন্নয়ন কর্মসূচি নিতে হবে।’ 

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলো সনদের বিভিন্ন দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করলেও পরবর্তী সময়ে এর বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নকে জটিল করেছে। সংসদে এর সমাধান না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’’ 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে আজহারুল ইসলাম বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দলমত-নির্বিশেষে সমান আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করতে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিনি। 

সরকারকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক ঐকমত্যকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও জনগণের আন্দোলনের মুখে টিকে থাকতে পারেনি।

রংপুরের উন্নয়নে ১২ দফা দাবি
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির দ্বিতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ, রংপুর বিভাগের অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্যাস সরবরাহ চালু, রেল যোগাযোগ আধুনিকায়ন ও ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি।

এ ছাড়া রংপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, নারীদের কর্মসংস্থান, কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন, রংপুর মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণ এবং বিভাগের জেলা শহরগুলোকে জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়েছে।

আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন সে অবস্থান অনেকটা নরম হয়ে এসেছে। কোনো বিদেশি চাপের কারণে প্রকল্পটি থেকে সরে আসা হলে রংপুরের মানুষ তা মেনে নেবে না।’ 

মধ্যপাড়া কঠিন শিলাখনির দ্বিতীয় প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে হার্ড রকের (কঠিন শিলা) চাহিদার তুলনায় স্থানীয় উৎপাদন খুবই কম। দ্বিতীয় খনি বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনার সুযোগ তৈরি হবে।

সৈয়দপুর বিমানবন্দর সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে উড়োজাহাজ চলাচল বাড়লেও বিমানবন্দরের সক্ষমতা সীমিত। উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের কথা বিবেচনায় নিয়ে বিমানবন্দরটির আধুনিকায়ন প্রয়োজন। এ ছাড়া দ্রুতগতির ট্রেন চালু, ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো এবং সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাকে কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।

আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা শুধু ‘সমান অধিকার’ চাই না; বরং পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী বেশি বরাদ্দ চাই। উন্নত অঞ্চলের সঙ্গে একই পরিমাণ বরাদ্দ দিলে পিছিয়ে থাকা অঞ্চল কখনোই সে ব্যবধান পূরণ করতে পারবে না। দেশের উন্নয়নের প্রধান বাধা অর্থ বা সম্পদের ঘাটতি নয়, বরং দুর্নীতি ও অযোগ্য নেতৃত্ব।’’ 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর উন্নয়ন ফোরামের সদস্যসচিব ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান, সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী (রংপুর-১), মো. গোলাম রব্বানী (রংপুর-৫), মো. আনোয়ারুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম-১), মো. মোস্তাফিজুর রহমান (কুড়িগ্রাম-৪), মো. আবদুস সাত্তার (নীলফামারী-১), আলফারুক আবদুল লতীফ (নীলফামারী-২), ওবায়দুল্লাহ সালাফী (নীলফামারী-৩), আবদুল মুনতাকিম (নীলফামারী-৪), মো. মাজেদুর রহমান (গাইবান্ধা-১), মো. আবদুল করিম (গাইবান্ধা-২), আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (গাইবান্ধা-৩) এবং মো. আবদুল ওয়ারেছ (গাইবান্ধা-৫)।

আরও পড়ুন

×