ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

আত্রাইয়ে গ্রাম মানেই কাঁচা রাস্তা

আত্রাইয়ে গ্রাম মানেই কাঁচা রাস্তা
×
×

আত্রাই উপজেলার ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজার থেকে বিশা পর্যন্ত কাঁচা সড়কের একাংশ সমকাল

মো. ওহেদুল ইসলাম মিলন, রাণীনগর (নওগাঁ)

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় গ্রাম মানেই কাঁচা রাস্তা। শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালি, বর্ষায় ভাঙাচোরা রাস্তায় কাদা পানি মাড়িয়ে দুর্ভোগ মাথায় পথ চলা। স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও এ দৃশ্যের কোনো পরিবর্তন নেই।
বছরের পর বছর ধরে গ্রামীণ জনপদের এই সড়কগুলো পাকা না হওয়ায় চলাচল ও মালপত্র পরিবহনে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। থমকে আছে তাদের জীবনমান উন্নয়ন। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার মূল সড়কগুলো পাকা হলেও সেখান থেকে গ্রামের দিকে যাওয়া রাস্তা এখনও কাঁচা। গ্রামের ভেতরের রাস্তা তো বটেই, আন্তঃগ্রাম সংযোগ স্থাপনকারী সড়কগুলোও পাকা হয়নি কখনও।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ৩৫৮ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৭৬ দশমিক ৯৬ কিলোমিটার সড়ক পাকা হয়েছে। 
এ ছাড়া ৪১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার হেরিং বোন বন্ড, ৪ দশমিক ৯৯ কিলোমিটার কংক্রিট, ২ দশমিক ৪২ কিলোমিটার ইউনিব্লক এবং ১৩২ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার কাঁচা মাটির সড়ক রয়েছে।

জানা যায়, আত্রাই-সিংড়া পাকা সড়কের ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজার থেকে বিশা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার কাঁচা। এ ছাড়া পতিসর-সমসপাড়া পাকা সড়কের হিঙ্গলকান্দি বাজার মোড় থেকে ধর্মপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার, ছোটডাঙ্গা সেতুর উত্তর পাশ থেকে ঝনঝনিয়া পর্যন্ত প্রায় পৌনে দুই কিলোমিটার, ছোটডাঙ্গা বাজার থেকে তারাটিয়া পর্যন্ত প্রায় সোয়া কিলোমিটার, হাটকালুপাড়া জামালের বাড়ি থেকে চকশিমলা উত্তরপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার, চকবাজার থেকে গাঙ্গের ধার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এবং পারকাসুন্দা-বিলগলিয়া সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা মিলিয়ে এই ১৩৩ কিলোমিটার সড়ক কাঁচা রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হলে এসব সড়ক কাদায় একাকার হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন মালপত্র পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং রোগীদের হাসপাতালে নিতে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে। এ ছাড়া শুষ্ক মৌসুমে কাঁচা সড়কে ধুলাবালু উড়ে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

বিশা উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দীন শেখ বলেন, ৪০ বছর ধরে শুনছি ভাঙ্গাজাঙ্গাল থেকে বিশা স্কুল পর্যন্ত মাটির এই সড়ক পাকা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত হয়নি। তিনি বলেন, এই সড়ক দিয়ে বিশা, স্যান্ডালপাড়া, পালপাড়া, দীঘিরপারসহ পাঁচ/সাতটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতে সড়কটি হাঁটু পরিমাণ কাদায় ডুবে যায়। 
এলাকাবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানান তিনি।
লালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মকলেছুর রহমান জানান, হিঙ্গলকান্দি মোড় থেকে ধর্মপুর পর্যন্ত সড়ক প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার। এর মধ্যে মোড় থেকে আধা কিলোমিটার পাকা হয়েছে। এরপর সামান্য অংশে ইট বিছানো আছে। এরপর থেকে কাঁচা সড়ক। তিনি বলেন, এই সড়ক দিয়ে হিঙ্গলকান্দি, লালপাড়া, উলাবাড়িয়া এবং ধর্মপুরসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজন চলাচল করেন।
পারকাসুন্দা-বিলগলিয়া সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী পারভেজ আহম্মেদ বলেন, আমরা এই এলাকার মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত। সড়কটি পাকা করার জন্য বহুবার চেষ্টা করেও ফল পাইনি। ফলে কাদা মাটিতে কষ্ট করে আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে।

বিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজার থেকে বিশা স্কুল মাঠ পর্যন্ত সড়কটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। টেন্ডারের প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি দ্রুত টেন্ডার শেষে কাজ শুরু হবে।
মনিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সম্রাট হোসেন বলেন, হিঙ্গলকান্দি-ধর্মপুর সড়কটি পাকাকরণের জন্য প্রায় দেড় বছর আগে টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু এখনও কাজ শুরু হয়নি। হয়তো দ্রুত শুরু হবে।
আত্রাই উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী নিতীষ কুমার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এবং জনদুর্ভোগ বিবেচনায় উপজেলার বেশ কয়েকটি রাস্তা পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রকল্প আকারে পাঠানো হয়েছে। একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন হলে বরাদ্দ পাওয়ার পর কাজ শুরু করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব সড়ক পাকা করা হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×