মিয়ানমারের কারাগারে ছয় মাস ধরে বন্দী ১৫ বাংলাদেশি জেলে
ফাইল ছবি
রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৪৬
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় মিয়ানমার নৌবাহিনীর হাতে আটক লক্ষ্মীপুরের রামগতির আটজনসহ ১৫ বাংলাদেশি জেলে ছয় মাস ধরে মিয়ানমারের কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বন্দী জেলেদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষগুলো দীর্ঘদিন ঘরে না থাকায় রামগতি, কমলনগর, নোয়াখালী ও ভোলার এসব পরিবারে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা।
গত ২৫ মার্চ সেন্টমার্টিনের অদূরে জলসীমানা থেকে ‘এফবি মা-বাবার দোয়া’ নামের একটি ট্রলারসহ ওই জেলেদের আটক করা হয়। পরে অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মো. তাহমীদ নামের এক কিশোর সম্প্রতি মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছে।
ফিরে আসা রামগতি উপজেলার চর গজারিয়া এলাকার তাহমীদের বয়স ১৫ বছর। তার ভাষ্য, মিয়ানমারের কারাগারে বন্দী জেলেদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তাদের পর্যাপ্ত খাবারও দেওয়া হচ্ছে না।
একই ট্রলারসহ আটক জেলেদের মধ্যে রামগতি উপজেলার আটজন এবং অন্যরা কমলনগর, নোয়াখালীর সুবর্ণচর, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী, ভোলার দৌলতখান ও কক্সবাজারের মহেশখালীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিতওয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের প্রধান আবদুল্লাহ আল রাজি জানান, জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে রামগতির আটজনসহ প্রায় ১৮০ জন বাংলাদেশি মিয়ানমারের কারাগারে বন্দী আছেন। তাদের মুক্তির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ক্ষমা ও মুক্তির আবেদন জানানো হয়েছে।
বন্দী জেলেদের পরিবারগুলোর অনেকেই ভিটামাটিহীন ও নদীভাঙনের শিকার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মাসের পর মাস কারাগারে থাকায় সংসার চালানো এবং সন্তানদের খাবারের জোগান দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।
চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের ভূলুয়া নদীর পাড়ে বসবাসরত জেলে মো. নিরবের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, তাদের নিজস্ব কোনো ভিটামাটি নেই। নদীর পাড়ে ছোট একটি ঘর তুলে শাশুড়ি, দুই ননদ ও দুই মেয়েকে নিয়ে থাকেন। নিরবই তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি আটক হওয়ার পর তাদের পরিবারে চরম দুর্বিষহ অবস্থা নেমে এসেছে।
চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নের সোনালী গ্রামের জেলে ফরহাদ হোসেনের মা ফরিদা বেগম বলেন, নদীভাঙনের কারণে তাঁদের ভিটেমাটি হারাতে হয়েছে। ফরহাদের বাবা দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে বাড়িতে পড়ে আছেন। চার সদস্যের পরিবারে ফরহাদই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ছেলে আটক থাকায় তারা দুর্বিষহ দিন পার করছেন।
স্বজনেরা জানান, প্রিয়জনদের দেশে ফিরিয়ে আনতে তারা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনেও মানববন্ধন করেছেন তারা। পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন। তবে এখনো বন্দী জেলেদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে তারা কোনো সুরাহা পাননি।
রামগতি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান জানিয়েছেন, বন্দী জেলেদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রচেষ্টা সর্বোচ্চ পর্যায়ে অব্যাহত রয়েছে।
- বিষয় :
- বঙ্গোপসাগর
- মিয়ানমার
- জেলে
- আটক